রাজশাহী মেডিক্যালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি
রামেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে কর্মবিরতি

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর হামলা ও হেনস্তার তীব্র প্রতিবাদে ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি এবং মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। ইন্টার্ন চিকিৎসক সোসাইটি রামেক হাসপাতালের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে অংশ নেন অসংখ্য ইন্টার্ন চিকিৎসকরা, যারা তাদের নিরাপত্তাহীনতার বিরুদ্ধে কণ্ঠ তুলেছেন।

হামলার ঘটনা ও প্রতিবাদের কারণ

চিকিৎসকরা জানান, গত ১৯ এপ্রিল রাতে হাসপাতালের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে এক রোগীর স্বজনের হামলায় দুই পুরুষ ইন্টার্ন চিকিৎসক আহত হন। এরপর ২০ এপ্রিল সন্ধ্যায় ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে এক নারী ইন্টার্ন চিকিৎসক হেনস্তা ও মবের শিকার হন। এসব ঘটনা চিকিৎসকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি করে, যা প্রতিবাদ কর্মসূচির মূল কারণ হিসেবে কাজ করে। তারা নিরাপদ কর্মপরিবেশের জোরালো দাবি জানিয়ে এই কর্মসূচি গ্রহণ করেন।

মানববন্ধনে বক্তাদের দাবি

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ইন্টার্ন প্রতিনিধি ডা. তানভীর আহমেদ তৌকির, ডা. মোহাম্মদ নাসরুল্লাহ শেখ, ডা. আবিরা সুলতানা, ডা. তানিয়া আক্তার ও ডা. মো. শিবলী। তারা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা কঠিন হয়ে পড়বে। অবিলম্বে হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি না হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হুঁশিয়ারি ও চলমান কর্মসূচি

ইন্টার্ন চিকিৎসকরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তাদের দাবি বাস্তবায়ন না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে তাদের ডাকা ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি চলমান রয়েছে, যা হাসপাতালের নিয়মিত চিকিৎসা সেবাকে আংশিকভাবে ব্যাহত করছে। তবে জরুরি বিভাগ ও বহির্বিভাগের সেবা চালু রয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরবর্তী পদক্ষেপ ও আলোচনা

এদিকে, ইন্টার্ন চিকিৎসকরা হাসপাতালের পরিচালকের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন। বৈঠক শেষে পরবর্তী কর্মসূচি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এই আলোচনা চিকিৎসকদের নিরাপত্তা ও দাবি পূরণের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এই ঘটনা চিকিৎসা সেবা খাতে নিরাপত্তার গুরুত্বকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে এবং চিকিৎসকদের অধিকার রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানাচ্ছে।