শহীদ দিবসে নিরাপত্তা নিশ্চিতে ডিএমপি কমিশনারের কঠোর নির্দেশ
মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা রোধে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সে আয়োজিত এক সমন্বয় সভায় তিনি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে নজরদারি বাড়ানোর এই নির্দেশনা দেন। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে ডিএমপি এই নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সভার আয়োজন করে।
সভায় ডিএমপি কমিশনারের বক্তব্য
সভায় সভাপতিত্বকালে ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, ‘শহীদ দিবসে কেউ যেন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই গুরুত্বপূর্ণ দিবসটি শান্তিপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে পালনের জন্য সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত জরুরি।
গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ভূমিকা
সভায় ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন) মো. সরওয়ার গোয়েন্দা বিভাগকে আগাম তথ্য সরবরাহ ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা যথাযথভাবে নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ‘গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কার্যকর নজরদারি ও তথ্য বিনিময় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক হবে।’
অন্যান্য কর্মকর্তাদের মতামত
অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস্) এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, প্রতিটি সংস্থা নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করলে দিবসটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে। তিনি আরও যোগ করেন, ‘সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টা শহীদ মিনার ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।’
সমন্বয় সভায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান
সমন্বয় সভায় ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছাড়াও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, ওয়াসা ও ফায়ার সার্ভিসসহ সরকারের বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় অংশগ্রহণকারীরা শহীদ মিনার ও এর আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের কর্মপরিকল্পনা ও মতামত তুলে ধরেন।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিস্তারিত
ডিএমপি কর্তৃপক্ষ শহীদ দিবসে নিম্নলিখিত ব্যবস্থাগুলো গ্রহণ করেছে:
- গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।
- ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা যথাযথভাবে নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
- বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো হয়েছে।
- শহীদ মিনার ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা চৌকি স্থাপন করা হয়েছে।
এই সমন্বয় সভার মাধ্যমে ডিএমপি শহীদ দিবসে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে, যা জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই দিবসটিকে শান্তিপূর্ণভাবে পালনে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
