বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অভিযানে সেন্টমার্টিনে সিমেন্ট পাচারকারী নৌকা ও ১১ জন আটক
সমুদ্রপথে মিয়ানমারে সিমেন্ট পাচারের সময় একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও ১১ জনকে আটক করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এর পাঠানো বার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার সেন্টমার্টিন দ্বীপ সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর থেকে তাদের আটক করা হয়।
অভিযানের বিস্তারিত বিবরণ
আইএসপিআর-এর বার্তায় জানানো হয়েছে, সমুদ্রপথে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে সিমেন্ট মিয়ানমারে পাচার পরিকল্পনার গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সেন্টমার্টিন ও তৎসংলগ্ন এলাকায় টহল জোরদার করে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। এ সময় টহলে নিয়োজিত বাংলাদেশ নৌবাহিনী জাহাজ ‘প্রত্যাশা’ সেন্টমার্টিন বাতিঘর থেকে ৩১ মাইল দূরে একটি সন্দেহজনক বোট দেখতে পায়।
নৌবাহিনী জাহাজ বোটটি তল্লাশির লক্ষ্যে থামার সংকেত দিলে তারা পালানোর চেষ্টা করে। পরে ‘প্রত্যাশা’ ধাওয়া করে ‘এফবি রুনা আক্তার’ নামের ওই বোটটি আটক করে। আটক করা বোটটি তল্লাশি করে ৭৪০ বস্তা বাংলাদেশি ‘ডায়মন্ড সিমেন্ট’ জব্দ করা হয়। এ সময় চোরাকারবারি দলের ১১ জন সদস্যকেও আটক করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উদ্ঘাটিত তথ্য
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটকরা জানান, গত সোমবার বিকেল ৪টার দিকে ‘এফবি রুনা আক্তার’ নামে বোটটি চট্টগ্রামের ফিশারি ঘাট থেকে যাত্রা করে সন্দ্বীপ চ্যানেলের জোড়াবয়া এলাকায় যায়। সেখান থেকে ৭৪০ বস্তা সিমেন্ট লোড করে বেশি মুনাফা লাভের আশায় মিয়ানমারের সীতা এলাকায় পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছিল।
অভিযানের পরবর্তী পদক্ষেপ
অভিযান শেষে জব্দ মালামাল ও আটক ব্যক্তিদের আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নৌবাহিনীর ফরোয়ার্ড বেইজ সেন্টমার্টিনে হস্তান্তর করা হয়। উল্লেখ্য, সমুদ্র ও উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা বজায় রাখার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাস, মাদক চোরাচালান ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমনে নৌবাহিনীর অভিযান ও টহল কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
এই ঘটনা বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সক্রিয় ভূমিকা ও সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। সমুদ্রপথে অবৈধ পাচার রোধে নৌবাহিনীর টহল কার্যক্রম আরও ত্বরান্বিত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
