লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে অটোচালক খুনের ঘটনায় চার আসামি গ্রেফতার
রায়পুরে অটোচালক খুনে চার আসামি গ্রেফতার

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে অটোচালক খুনের ঘটনায় চার আসামি গ্রেফতার

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে অটোচালক সোহাগ হোসেন (২৭) খুনের মামলায় চারজন আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার রাত ও সোমবার সকালে রাখালিয়া গ্রাম থেকে এই গ্রেফতার কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামিদের পরিচয়

গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন মো. নজির, মো. রিদয়, মো. সুজন এবং আরাফাত হোসেন। এই ঘটনায় তাদের জড়িত থাকার সন্দেহে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

খুনের ঘটনার বিবরণ

শনিবার দুপুরে রায়পুর উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের পাটোয়ারী রাস্তার মাথা এলাকার হেলাল পাটোয়ারীর কলাবাগানে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। নিহত সোহাগ হোসেন একই এলাকার লালগাজি মিজি বাড়ির তাজল ইসলামের ছেলে ছিলেন।

মামলা ও তদন্তের অগ্রগতি

রোববার সকালে নিহতের বড় ভাই রাজিব হোসেন থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে সোনাপুর ইউনিয়নের চরবগা গ্রামের জুয়াড়ি ও মাদকসেবী নজির আহাম্মদ (৪৮), মো. রিদয় (২২), মুরাদ (৩০), আরাফাত (২৫), শাহিন (২৬), মো. রাব্বি (২৬) এবং মো. সুজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে, গ্রেফতারকৃত আসামি আরাফাতের বিদেশে চলে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নিহতের পরিবার জানিয়েছে, ঘটনার পর থেকে আরাফাতসহ অন্যান্য আসামিরা পলাতক রয়েছেন। আরাফাতের ছবি ও পাসপোর্ট ইতিমধ্যে থানার ওসির কাছে পাঠানো হয়েছে।

বিক্ষোভ ও পুলিশের প্রতিক্রিয়া

ঘটনার প্রতিবাদে রোববার বিকাল ৫টার সময় নিহতের বাড়ির কাছে ও থানার সামনে মানববন্ধন করেন তার স্বজন ও এলাকাবাসী। এই সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ঘাতকদের গ্রেফতারের আশ্বাস দেন।

তদন্তের বর্তমান অবস্থা

রায়পুর থানার ওসি শাহিন মিয়া জানান, অটোচালক সোহাগ হোসেনের খুনের ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজন আরাফাত, নজির, সুজন ও রিদয়কে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রাত থেকে সোহাগ হোসেনকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তার পরিবারের দাবি, তাদের সঙ্গে কারও বিরোধ নেই। তবে, সোহাগ এলাকার কয়েকজন মাদকসেবী ও জুয়াড়িদের সঙ্গে অনলাইনে জুয়ায় আসক্ত ছিলেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, খুনিরা সোহাগ হোসেনকে হত্যা করে তার মোবাইল ফোন ও অটোরিকশা নিয়ে পালিয়েছে। এই ঘটনায় স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।