পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, বিগত সময়ে পুলিশ বাহিনীতে যে বিশৃঙ্খল অবস্থা ছিল, তা অনেকাংশে গুছিয়ে আনা হয়েছে। শুক্রবার (৮ মে) দুপুরে রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকায় খিলক্ষেতে একটি নতুন পুলিশ ফাঁড়ি ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এই দাবি করেন। এ সময় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ সপ্তাহ নতুন আঙ্গিকে উদযাপনের ঘোষণা
আইজিপি বলেন, ২০২০-২১ সালে করোনা মহামারি এবং পরবর্তীতে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে পুলিশ সপ্তাহ সঠিকভাবে উদযাপন করা সম্ভব হয়নি। বর্তমান সরকারের আমলে নতুন আঙ্গিকে পুলিশ সপ্তাহ উদযাপন করা হবে। তিনি আরও বলেন, পুলিশে যে বিশৃঙ্খল অবস্থা ছিল, সেটা অনেকাংশেই গুছিয়ে আনা হয়েছে।
আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর হয়েছে
তিনি উল্লেখ করেন, আগে পুলিশের বিভিন্ন প্রয়োজনে আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে ফাইল গেলে ঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত আসত না। এখন সেই দিন নেই। নতুন সরকার নতুন উদ্যমে কাজ করছে এবং জনগণের আশানুরূপ আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নের জন্য পুলিশকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করছে।
সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা
আইজিপি বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারেও ছিল সবার আগে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক করা। সরকার পুলিশের প্রতি খুবই আন্তরিক ও সহানুভূতিশীল। পুলিশ সপ্তাহ পুলিশকে আরও সুশৃঙ্খল এবং জনবান্ধব করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা নির্দেশনা দিয়েছেন। নতুন প্রজন্ম যে পুলিশ আশা করে, সেই পুলিশ গড়ে তুলতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
আবাসন ও জনবল সংকট
আবাসন ও জনবল সংকট প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, পুলিশের ২ লাখ ২০ হাজার সদস্যের বিপরীতে আবাসন ব্যবস্থা রয়েছে মাত্র ১ লাখ ৫ হাজার। পুলিশে আরও নতুন নিয়োগ হবে এবং প্রতিবছর কিছু সদস্য চলে যাচ্ছেন। সরকার বিষয়গুলো জানে এবং নতুন অর্থ বছরে নতুনভাবে সে অনুযায়ী সহায়তা করবে।
নতুন পুলিশ ফাঁড়ির গুরুত্ব
পুলিশ ফাঁড়ি উদ্বোধনের বিষয়ে আইজিপি বলেন, ঢাকা মহানগরীর সম্প্রসারণ, পূর্বাচল নতুন শহরকে কেন্দ্র করে আবাসিক ও বাণিজ্যিক স্থাপনার দ্রুত বৃদ্ধি এবং ৩০০ ফিট এক্সপ্রেসওয়েকে ঘিরে জনসংখ্যা ও যানবাহন চলাচল বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই খিলক্ষেত থানার আওতাধীন বরুয়া, ডুমনি, পাতিরা, তলনা ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও দ্রুত পুলিশি সেবা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
আইজিপি আরও বলেন, ৩০০ ফিট এক্সপ্রেসওয়ে সংলগ্ন এলাকায় নতুন পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন একটি সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এর মাধ্যমে জনগণের দোরগোড়ায় দ্রুত ও কার্যকর পুলিশি সেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব এবং প্রো অ্যাকটিভ পুলিশিং কার্যক্রম আরও জোরদার হবে।
অপরাধ প্রতিরোধে জোর
তিনি বলেন, অপরাধ সংগঠনের আগেই যেন প্রতিরোধ নেওয়া যায় সে লক্ষ্যে পুলিশিং কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা হবে। এছাড়া জরুরি ঘটনার সংবাদ প্রাপ্তি ও তাৎক্ষণিক সাড়া দেওয়াও সম্ভব হবে।
ডিএমপি কমিশনারের বক্তব্য
অনুষ্ঠানে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার বলেন, পুলিশি সেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। নতুন এই ফাঁড়ি ভবন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।



