বগুড়া এয়ারফিল্ড আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করার পরিকল্পনা সরকারের
বগুড়া এয়ারফিল্ড আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করার পরিকল্পনা

বগুড়া এয়ারফিল্ডকে আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দরে উন্নীত করার আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। একইসঙ্গে এখানে বিমানবাহিনীর একটি পূর্ণাঙ্গ ঘাঁটি স্থাপন এবং পাইলট তৈরির জন্য একটি ফ্লাইং একাডেমি প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে বগুড়া এয়ারফিল্ড ও সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শন শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও বিমানবাহিনী প্রধান এসব তথ্য জানান।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা, প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।

বিমান ও পর্যটনমন্ত্রীর বক্তব্য

বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর আকাশপথের যোগাযোগ সুদৃঢ় করতে বগুড়া এয়ারফিল্ডকে আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দরে উন্নীত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় আমরা বগুড়া পরিদর্শনে এসেছি। উত্তরাঞ্চলের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বগুড়াকে দেশের অন্যতম এভিয়েশন হাবে রূপান্তর করা হবে। এজন্য আপনারা বগুড়াবাসী সত্যিই ভাগ্যবান, কারণ মন্ত্রণালয়ের এই বৃহৎ পরিকল্পনার যাত্রা বগুড়া দিয়েই শুরু হচ্ছে।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিমানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘দেশের উত্তরাঞ্চল কৃষি, শিল্প ও পর্যটনের দিক থেকে অত্যন্ত সম্ভবনাময়। এই অঞ্চলের টেকসই উন্নয়ন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়নের জন্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল হবে, বিনিয়োগ ও পর্যটন খাত সম্প্রসারিত হবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ‘উত্তরাঞ্চলের মানুষের জন্য একটি বড় উন্নয়ন প্যাকেজ হাতে নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের প্রথম সামরিক বিমান ঘাঁটি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বগুড়া বিমানবন্দরে বিমান বাহিনীর তত্ত্বাবধানে পাইলট একাডেমি ও প্রশিক্ষণকেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। এতে সামরিক পাইলটদের পাশাপাশি বেসামরিক মেধাবী তরুণ-তরুণীদেরও পাইলট হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিকমানের বিমানবন্দরের জন্য প্রায় ১০ হাজার ৫০০ ফুট রানওয়ে প্রয়োজন। বর্তমানে বিদ্যমান রানওয়েকে সম্প্রসারণ করে সেই মানে উন্নীত করা হবে। ভবিষ্যতে এই বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক, অভ্যন্তরীণ ও সামরিক বিমান চলাচল করবে। এর ফলে উত্তরাঞ্চলের কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য দ্রুত রফতানির সুযোগ সৃষ্টি হবে। রানওয়ে সম্প্রসারণে যেসব স্থাপনা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে সেগুলো অধিগ্রহণ করা হবে। এজন্য জমির মালিকদের সরকার নির্ধারিত তিনগুণ মূল্য দেওয়া হবে। তাই নতুন করে কেউ যেন কোনও স্থাপনা নির্মাণ না করে।’

বিমান বাহিনী প্রধানের বক্তব্য

বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন বলেন, ‘প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির পাশাপাশি কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে এবং আকাশসীমা সুরক্ষায় সামরিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে। পর্যায়ক্রমে বগুড়া এয়ারফিল্ড সামরিক ও বেসামরিক উভয় ধরনের বিমান চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে। দ্রুত সময়ে বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালুর জন্য বেবিচক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করবে।’