কুমিল্লায় স্বামীর সামনে স্ত্রীকে ছিনিয়ে ধর্ষণ, গ্রেফতার ৪
কুমিল্লায় স্বামীর সামনে স্ত্রীকে ছিনিয়ে ধর্ষণ, গ্রেফতার ৪

কুমিল্লার চান্দিনায় আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার পথে স্বামীর কাছ থেকে স্ত্রীকে ছিনিয়ে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। রবিবার (৩ মে) দিবাগত ১২টার দিকে উপজেলার মাইজখার ইউনিয়নের কামারখোলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চার জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

ভুক্তভোগী ও গ্রেফতারকৃতদের পরিচয়

ভুক্তভোগী নারী (২৭) এক সন্তানের মা। গ্রেফতারকৃতরা হলো- চান্দিনার মাদারপুর গ্রামের শাহজাহান মিয়ার ছেলে মো. আশিক (৩১), কামারখোলা গ্রামের আলমগীর হোসেনের ছেলে মেহেদী হাসান ওরফে তারেক (২৪), একই গ্রামের আলমাছ মিয়ার ছেলে মো. আরিফ (৩৪) এবং মৃত জয়নাল আবেদীনের ছেলে মো. ইসমাইল (৩৭)।

ঘটনার বিবরণ

ভুক্তভোগী নারী ও তার স্বামীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পাশের বরুড়া উপজেলার বাসিন্দা ওই দম্পতি রবিবার রাত ৯টার দিকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে চান্দিনায় এক আত্মীয়ের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। রাত ১০টার দিকে অটোরিকশাটি মাদারখোলা এলাকায় পৌঁছালে সেটির চার্জ শেষ হয়ে যায়। এরপর তারা অটোরিকশাটি ঠেলে নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় একটি মোটরসাইকেলে তিন যুবক এসে তাদের পথ রোধ করে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ওই নারীর স্বামী বলেন, ‘মোটরসাইকেলে করে তিন জন এসেই আমাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ শুরু করে। তারা ফোন করে আরও দুজনকে আনে। তাদের মধ্যে কয়েকজন আমার স্ত্রীকে জোর করে টেনেহিঁচড়ে পাশের ধানক্ষেতের মধ্যে নিয়ে যায়। একজন আমাকে দূরে নিয়ে রাতের অন্ধকারে ছেড়ে দেয়। এ সময় আমি পুলিশের জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করলে ঘটনাস্থলে এসে আমার স্ত্রীকে উদ্ধার করে পুলিশ।’

ভুক্তভোগীর অবস্থা ও বক্তব্য

ঘটনার পর থেকে ওই নারী চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। ওই নারী বলেন, ‘ওরা আমাকে টানাহেঁচড়া করে নিয়ে ধর্ষণ করে। আমি তাদের পায়ে ধরেছি, চিৎকার করে কান্না করেছি। কিন্তু আমার শেষ রক্ষা হয়নি। আমি ওদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশের বক্তব্য

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, ‘ওই নারীর ওপর পাশবিক নির্যাতনের ঘটনায় সংঘবদ্ধ ওই চক্রে পাঁচ জন জড়িত। তাদের মধ্যে দুজন সরাসরি ধর্ষণ করে; বাকিরাও অপেক্ষমাণ ছিল। আমরা ঘটনাস্থল থেকে চার জনকে আটক করেছি। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। মামলায় আটক ব্যক্তিদের গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। ভুক্তভোগী নারীকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত পলাতক অপর আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’