লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে নিখোঁজের ৭ ঘণ্টা পর রাজিব হোসেন (১৪) নামের এক অটোচালক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মুক্তিপণ না পেয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসার পাশাপাশি স্বজন ও গ্রামবাসীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
নিহতের পরিচয় ও ঘটনার বিবরণ
নিহত রাজিব উপজেলার দক্ষিণ গাইয়ার গ্রামের অটোচালক মোস্তফার ছেলে। শনিবার (২ মে) দুপুরে উপজেলার চরআবাবিল ইউনিয়নের ক্যাম্পের হাট স্কুলের পাশের একটি সুপারি বাগান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত ৮টার দিকে রাজিব অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরে আসেনি। পরিবারের সদস্যরা রাতভর বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনও সন্ধান পায়নি। রাজিবের স্বজনরা অভিযোগ করেন, রাত ৩টার দিকে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা তার বাবার মোবাইল ফোনে কল দিয়ে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।
মরদেহ উদ্ধার ও প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য
শনিবার দুপুরে স্থানীয় গ্রামবাসী একটি সুপারি বাগানে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাজিবের মরদেহ উদ্ধার করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাজিবের মাথায় একাধিক গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, শিমুলতলা এলাকার এক ব্যক্তিকে রাজিবের অটোরিকশাটি নিয়ে পালিয়ে যেতে দেখা গেছে। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থেকেই ওই ব্যক্তি এলাকাছাড়া।
পিতা ও পুলিশের বক্তব্য
সন্তান হারিয়ে বাকরুদ্ধ পিতা মোস্তফা বলেন, “আমার সব সম্বল ছিল রাজিব। এই অবুঝ ছেলেকে যারা হত্যা করেছে, তাদের দ্রুত গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।”
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীন মিয়া বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে। মুক্তিপণ দাবির বিষয়টি আমরা গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছি। ঘাতকদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।”



