মুন্সীগঞ্জে যুবককে ডেকে নিয়ে নির্যাতনের পর হত্যার অভিযোগ, তদন্ত চলছে
মুন্সীগঞ্জে যুবক হত্যা: নির্যাতনের পর মৃত্যু, তদন্ত

মুন্সীগঞ্জে যুবককে ডেকে নিয়ে নির্যাতনের পর হত্যার অভিযোগ

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার বাউশিয়া ইউনিয়নের দড়ি বাউশিয়া গ্রামে এক যুবককে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে রাতভর নির্যাতনের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত যুবকের নাম মো. রাকিব (২২)। তিনি চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলার আমিয়াপুর গ্রামের আলমগীর হোসেনের ছেলে। পারিবারিক বিরোধের কারণে ছোটবেলা থেকেই তিনি গজারিয়ার গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের শিমুলিয়া গ্রামে নানার বাড়িতে বেড়ে ওঠেন। পরবর্তীতে মাকে নিয়ে বাউশিয়া ইউনিয়নের দড়ি বাউশিয়া গ্রামে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন এবং একটি ফ্যান কোম্পানিতে চাকরি করতেন।

ঘটনার বিবরণ

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রোববার (১৯ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১১টার দিকে তিন যুবক একটি গাড়ি নিয়ে রাকিবদের ভাড়া বাসায় আসে এবং তাকে ডেকে বাইরে নিয়ে যায়। এ সময় রাকিবের বোন আঁখি আক্তার বাধা দিলেও তারা ‘কিছুক্ষণ কথা বলে ফিরিয়ে দেবে’ বলে তাকে নিয়ে যায়। আঁখি আক্তার জানান, ভাইকে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি ও তার খালা পিছু নেন, তবে যানবাহন না থাকায় দৌড়ে তাদের অনুসরণ করতে থাকেন। পরে রাত আনুমানিক দেড়টা থেকে ২টার দিকে শিমুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে রাকিবকে মুমূর্ষু অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে স্বজনরা ভোর ৫টার দিকে তাকে উদ্ধার করে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

চিকিৎসক ও পুলিশের বক্তব্য

গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. সোলায়মান জানান, নিহতের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাত বা বড় ধরনের জখমের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে শরীরের পেছনে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ বিষয়ে গজারিয়া থানার ওসি মো. হাসান আলী বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত বিচার দাবি করছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে পারিবারিক বা ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের সম্ভাবনা রয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে, তবে পুলিশ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও কারণ নিশ্চিত করেনি। গজারিয়া উপজেলা প্রশাসনও ঘটনাটি মনিটরিং করছে এবং নিহতের পরিবারকে সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রাকিব একজন শান্তিপ্রিয় যুবক ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে কোনও অপরাধমূলক রেকর্ড নেই।