নাহিদ রানার বোলিংয়ে বাংলাদেশের জয়, পেসারদের ইনজুরি নিয়ে সতর্কবার্তা
প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১০:১৩ পিএম
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ হারের শঙ্কা নিয়ে খেলতে নেমে বাংলাদেশ দল জয় পেয়েছে, যার মূল কৃতিত্ব তরুণ পেসার নাহিদ রানার দুর্দান্ত বোলিংয়ের। তিনি ১০ ওভারে মাত্র ৩২ রানে ৫ উইকেট শিকার করে ম্যাচ সেরা হন। খেলা শেষে তিনি ইনজুরির ঝুঁকি নিয়ে মন্তব্য করেন, 'ইনজুরি কখনো বলে আসে না। আর আপনি যদি যুদ্ধে নামেন, তবে গুলি খাওয়ার ভয় করলে চলবে না।'
পেস বোলারদের ইনজুরির উচ্চ ঝুঁকি
পেস বোলাররা অন্যান্য ক্রিকেটারদের তুলনায় অনেক বেশি ইনজুরিতে পড়েন, কারণ ফাস্ট বোলিং শরীরের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে। একজন পেস বোলারের শরীরে প্রতিটি ডেলিভারিতে নিজের ওজনের প্রায় ৮-১০ গুণ চাপ পড়ে। বল করার সময় দৌড়ানো, লাফানো এবং বল ছাড়ার সময় শরীর যে মোচড় ও চাপ অনুভব করে, তা পেশী ও হাড়ের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
বলের পর বল, ওভারের পর ওভার একইভাবে শরীরকে বাঁকিয়ে বা ঘুরিয়ে বল করার কারণে মেরুদণ্ড এবং পায়ের পেশীতে দীর্ঘমেয়াদী চাপ সৃষ্টি হয়। সাধারণত পেসারদের মেরুদণ্ডের নিচের অংশ, হ্যামস্ট্রিং এবং গোড়ালিতে ইনজুরি বেশি হয়। এর ফলে ফাস্ট বোলারদের ক্যারিয়ার অন্যান্য ক্রিকেটারদের তুলনায় অপেক্ষাকৃত ছোট হয়ে থাকে। এই ইনজুরির কারণে বিশ্বের অনেক পেসার খেলা ছেড়ে দিয়েছেন।
নাহিদ রানার ফিটনেস রুটিন
নাহিদ রানা তার সাফল্যের পেছনে আল্লাহর কৃপা এবং নিজের ফিটনেস রুটিনকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, 'আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ আমাকে সুস্থ রেখেছেন। আর দ্বিতীয়ত হচ্ছে যে, আমি আমার ফিটনেস নিয়ে যে কাজগুলো করি। সেগুলো আমি আমার অনুশীলনের বাইরে কিংবা যখন অনুশীলন চলে তখন ফিটনেস ট্রেনারের সাথে কাজ করি এবং তাদের সাথে কথা বলি যে, কীভাবে নিজের ফিটনেস বাড়ানো যায় বা আরও উন্নত করা যায়। যাতে খেলার সময় আমি মাঠের মধ্যে অনুভব করি যে আমি বল করছি কিন্তু কখনো ক্লান্ত হচ্ছি না।'
নাজমুল হোসেন শান্তের চোট নিয়ে মন্তব্য
এদিন ব্যাটিংয়ের সময় চোট পান নাজমুল হোসেন শান্ত। তাকে নিয়ে নাহিদ রানা বলেন, 'শান্ত ভাই আজ অনেকক্ষণ ফিল্ডিং করেছেন এবং অনেকক্ষণ ব্যাটিংও করেছেন। আজ মাঠে অনেক গরম ছিল, তাই গরমে উনার পেশিতে টান লেগেছিল। কোনো ইনজুরি নয়, এখন আলহামদুলিল্লাহ্ ঠিক আছেন।' এই ঘটনা ক্রিকেটে শারীরিক চাপের গুরুত্বকে আরও উজ্জ্বল করে তোলে।
নাহিদ রানার এই জয় বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত, যা পেসারদের ইনজুরি মোকাবিলা এবং ফিটনেসের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ায়।



