কুষ্টিয়া থেকে শিশুদের অপহরণ করে ঢাকায় ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করত একটি চক্র। কুষ্টিয়ার পোড়াদহ রেলওয়ে থানা পুলিশ ওই চক্রের দুই নারী সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী অপহরণ করা তিন শিশুকে ঢাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেফতার ও উদ্ধার অভিযান
সোমবার বিকাল ৪টায় পোড়াদহ রেলওয়ে থানায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান খুলনা রেলওয়ে জেলার পুলিশ সুপার আহমদ মইনুল হাসান। গ্রেফতার হওয়া দুই শিশু অপহরণকারী হলো- কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার কাটদহ চর গ্রামের ফতে আক্তার ও শাহনাজ বেগম।
অপহরণের ঘটনা
সংবাদ সম্মেলনে রেলওয়ের পুলিশ সুপার জানান, গ্রেফতার দুই নারী ভিক্ষাবৃত্তির জন্য শিশু অপহরণ চক্রের সদস্য। তারা বিভিন্ন কৌশলে শিশুদের অপহরণ করে অন্যত্র বিক্রি করে দেয়। পরে সেই চক্রের সদস্যরা রেলওয়ে স্টেশনসহ বিভিন্ন জনবহুল এলাকায় ওই শিশুদের দিয়ে ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করে।
তিনি জানান, গত ২৭ এপ্রিল সকালে পোড়াদহ রেলওয়ে জংশন এলাকা থেকে সিফাত (১০) ও মোমিন (৯) নামে দুই শিশুকে সুকৌশলে অপহরণ করা হয়। অপহরণকারীরা ট্রেনে করে শিশু দুটিকে যশোর নিয়ে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেয়।
মামলা ও গ্রেফতার
সিফাতের মা জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার রাজনগর গ্রামের বাসিন্দা শেফালী আক্তার। তিনি গত ৬ জুন পোড়াদহ রেলওয়ে থানায় একটি মামলা করেন। ওই মামলায় ফতে আক্তারকে সন্দেহভাজন আসামি করা হয়। পরে পুলিশ তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি শিশু অপহরণের কথা স্বীকার করেন। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী গ্রেফতার করা হয় অপর অপহরণকারী শাহনাজ বেগমকে।
পরে এ দুইজনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকে পুলিশ জানতে পারে কিছুদিন স্টেশনে ভিক্ষাবৃত্তিতে জড়িত তিনটি শিশুকে পুলিশ আটক করে রাজধানীর একটি বেসরকারি শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে হস্তান্তর করেছে। পরে পোড়াদহ স্টেশন থেকে অপহৃত দুই শিশুসহ মোট তিন শিশুকে ওই সংস্থা থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।
অপহরণের শিকার তৃতীয় শিশুটির বাড়িও কুষ্টিয়ায় বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার। তাদের আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলেও জানান তিনি।



