টাঙ্গাইলে দোকানে বাকি খাওয়া নিয়ে দুই গ্রামের সংঘর্ষে নিহত ১
টাঙ্গাইলে দোকানে বাকি খাওয়া নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ১

টাঙ্গাইলের গোপালপুরে দোকানে বাকি খাওয়াকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের মধ্যে সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তির নাম কালাম তালুকদার (৬৫)। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৫ জন।

সংঘর্ষের বিবরণ

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের গুলিপেঁচা ও ভূঞাপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী জগৎপুরা গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দফায় দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত কালাম তালুকদার জগৎপুরা গ্রামের বাসিন্দা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দোকানে বাকি খাওয়াকে কেন্দ্র করে ২২ এপ্রিল গুলিপেঁচা ও জগৎপুরা গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার জেরেই বৃহস্পতিবার পুনরায় দুপক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে যায়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হামলা ও অগ্নিসংযোগ

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিকালে গুলিপেঁচা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল আলিম ফকির (৫০) নিজ বাড়ির পাশের কৃষিজমিতে কাজ করার সময় জগৎপুরা গ্রামের কয়েকজন তাকে তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে মারধর করে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। খবর পেয়ে হেমনগর তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের লোকজন দেশিয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালে দফায় দফায় ধাওয়া-পালটা ধাওয়া, হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

নিহত ও আহত

সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন কালাম তালুকদার। তাকে ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে সন্ধ্যায় আব্দুল আলিম ফকির ও তার দুই ভাইয়ের বাড়িতে হামলা চালিয়ে লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে কয়েকটি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশের পদক্ষেপ

ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ভূঞাপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আসলাম উদ্দিন বলেন, কালাম তালুকদারের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। গোপালপুর থানার ওসি মো. আনোয়ার হোসেন অগ্নিসংযোগের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।