রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যাত্রীবাহী বাস ফেরিতে ওঠার সময় যাত্রীদের গাড়ি থেকে নামানোর সরকারি নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না। ফলে প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীসহ বাস ফেরিতে উঠছে। সংশ্লিষ্টদের নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছে সচেতন মহল।
সরেজমিনে যা দেখা গেছে
শনিবার সরেজমিন দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় দেখা যায়, বিভিন্ন পরিবহনের যাত্রীবাহী বাস সরাসরি যাত্রী নিয়েই ফেরিতে উঠছে। অনেক যাত্রীই জানেন না যে ফেরিতে ওঠার আগে নিরাপত্তার স্বার্থে বাস থেকে নেমে যাওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।
চালক ও যাত্রীদের বক্তব্য
বরিশাল থেকে ছেড়ে আসা সাকুরা পরিবহনের চালক বলেন, 'আমাদের ফেরিঘাটে আসার সময় কেউ যাত্রী নামানোর কথা বলেনি। যদি কর্তৃপক্ষ বা ঘাটের লোকজন বলতো, তাহলে অবশ্যই যাত্রী নামিয়ে ফেরিতে উঠতাম। যাত্রী নিয়ে বাস ওঠানো ঝুঁকিপূর্ণ। যাত্রীরা নেমে গেলে গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করাও সহজ হয়।'
জননী পরিবহনের যাত্রী সেলিম বলেন, 'আমাদের কেউ গাড়ি থেকে নামতে বলেনি। আমরা তো জানিই না ফেরিতে ওঠার আগে বাস থেকে নামতে হয়। যদি জানানো হতো তাহলে অবশ্যই নেমে যেতাম।'
একই পরিবহনের আরেক যাত্রী বলেন, 'ফরিদপুর থেকে ঢাকায় যাচ্ছি। কোথাও কেউ বলেনি যে ফেরিতে ওঠার আগে বাস থেকে নামতে হবে। সচেতনতার অভাব আছে, আবার কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও কঠোর ব্যবস্থা দেখা যায় না।'
বিআইডব্লিউটিসির বক্তব্য
বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাটের সহকারী মহাব্যবস্থাপক সালাহ উদ্দিন বলেন, 'আমরা নিয়মিত মাইকিং করছি এবং যাত্রী ও চালকদের অনুরোধ করি, যেন তারা বাস থেকে নেমে ফেরিতে গিয়ে ওঠেন। অনেকেই বাস থেকে নামছেন না। এ বিষয়ে আমরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছি।'
পূর্বের দুর্ঘটনা ও নির্দেশনা
উল্লেখ্য, ২৫ মার্চ বিকাল সোয়া ৫টার দিকে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী 'সৌহার্দ্য পরিবহন' নামের একটি বাস দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর পন্টুন দিয়ে ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। ওই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ২৬ জনের মৃত্যু হয়। এরপর থেকেই বিআইডব্লিউটিসির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ফেরিতে ওঠার আগে সব যাত্রীকে বাস থেকে নামিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা জারি করে। তবে বাস্তবে সেই নির্দেশনার কার্যকর প্রয়োগ এখনও দৃশ্যমান নয়।



