জাবি শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টা: মামলা দায়ের, অভিযুক্ত শনাক্ত
জাবি শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টা: মামলা দায়ের, অভিযুক্ত শনাক্ত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে রাস্তা থেকে টেনে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার (১৩ মে) এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় মামলা দায়ের করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হল ও আল-বেরুনী হলের সম্প্রসারিত অংশ সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার বিবরণ

ভুক্তভোগী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের (৫১তম আবর্তন) শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে। ঘটনার পর তাকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ১১টা ২০ মিনিটের দিকে ওই শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসের রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় এক ব্যক্তি তাকে অনুসরণ করতে থাকেন। পরে পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হল সংলগ্ন সড়কে পৌঁছালে ওই ব্যক্তি শিক্ষার্থীর গলায় রুমাল বা দড়িসদৃশ কিছু পেঁচিয়ে টেনে-হিঁচড়ে পাশের আল-বেরুনী হলের এক্সটেনশন সংলগ্ন জঙ্গলে নিয়ে যান।

এ সময় পরিত্যক্ত ফজিলাতুন্নেছা হলের সামনের রাস্তা দিয়ে মোটরসাইকেলে কয়েকজন শিক্ষার্থী যাচ্ছিলেন। ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে গেলে ওই ব্যক্তি পালিয়ে যান। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে মোটরসাইকেল আরোহীরা ওই নারী শিক্ষার্থীকে আতঙ্কিত অবস্থায় জঙ্গলের পাশে দেখতে পান। তখন তার পায়ে স্যান্ডেল ছিল না এবং শরীর ও কাপড়ে মাটি লেগে ছিল বলে জানান তারা।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তদন্ত ও ব্যবস্থা

ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা অফিসে খবর দেন। পরে নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও প্রক্টোরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। একইসঙ্গে অভিযুক্তকে শনাক্ত করতে নিরাপত্তা অফিসে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হল সংলগ্ন সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় এক নারী শিক্ষার্থী ধর্ষণচেষ্টার শিকার হন। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা ঘটনাস্থলে যাই এবং সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা শুরু করি। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আমরা অভিযুক্তকে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছি। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীও অভিযুক্তকে শনাক্ত করেছেন। তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে। উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনা করে এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা চাই, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আসুক।

এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার ওসি মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্তের জন্য ১০ সদস্যের টিম বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় কাজ করছে। তাদের সহায়তায় র্যাবও মাঠে নেমেছে। আশা করছি অতিদ্রুত অপরাধীকে ধরতে পারব।