বেলুচ মানবাধিকারকর্মী সাম্মি দীন বালোচ ১৭ বছর আগে নিখোঁজ হওয়া তাঁর বাবা ডা. দীন মোহাম্মদ বালোচের ফেরত অথবা মৃত্যুর সরকারি স্বীকৃতি চেয়ে একটি আবেগঘন খোলা চিঠি প্রকাশ করেছেন। চিঠিতে তিনি পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে কথিত জোরপূর্বক গুমের ঘটনা তুলে ধরেছেন।
১৭ বছরের অনিশ্চয়তা
ডা. দীন মোহাম্মদ বালোচ ২০০৯ সালের ২৮ জুন পাকিস্তানের খুজদার জেলা থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর হেফাজতে নেওয়ার পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। সাম্মি জানিয়েছেন, প্রায় দুই দশক ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা তাদের পরিবার এখন বাবার নিরাপদ প্রত্যাবর্তন অথবা মৃত্যুর সরকারি স্বীকৃতি পাওয়ার অধিকার রাখে। তিনি লিখেছেন, "হয়তো এ বছর আপনি তাকে বাড়ি ফিরতে দেবেন। আর যদি তাকে হত্যা করে থাকেন, তাহলে অন্তত এ বছর আমাদের আরেকটি শুনানির তারিখ নয়, একটি মৃত্যুসনদ দিন।"
পরিবারের দাবি ও সরকারের অস্বীকৃতি
পরিবার ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই বেলুচিস্তানে সংঘটিত বহু গুমের ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তবে পাকিস্তান সরকার বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। সাম্মি তাঁর শৈশবের যন্ত্রণার কথা তুলে ধরে বলেন, "আমাকে দেওয়া হয়েছে গুম, অস্বীকার আর অপমান। রাষ্ট্র আমার বাবাকে কেড়ে নেওয়ার পর তাকে ভালোবাসার শাস্তি আমাকে সারাজীবন বহন করতে হচ্ছে।"
সাম্মির মানবাধিকারকর্মী হিসেবে ভূমিকা
বর্তমানে ভয়েস ফর বেলুচ মিসিং পারসন্স—এর সাধারণ সম্পাদক সাম্মি দীন বালোচ গত এক দশকে বেলুচিস্তানে কথিত গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো, আইনি সহায়তা, প্রতিবাদ কর্মসূচি এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। এ সময় তাকে একাধিকবার গ্রেফতার, নজরদারি ও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংস্থার সমর্থন
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ফ্রন্ট লাইন ডিফেন্ডার্স সাম্মির প্রতি সংহতি জানিয়ে পাকিস্তান কর্তৃপক্ষের কাছে ডা. দীন মোহাম্মদ বালোচের অবস্থান প্রকাশ এবং সব গুমের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
চিঠির শেষ আবেদন
চিঠির শেষদিকে সাম্মি লেখেন, "আমার আব্বা কোনো ফাইল ছিলেন না, কোনো গুজবও নন। তিনি ছিলেন ডা. দীন মোহাম্মদ—একজন চিকিৎসক, একজন স্বামী, একজন বাবা। তাকে নিয়ে যাওয়ার আগে তিনি আমাদেরই ছিলেন।"



