ইতালি যাওয়ার প্রলোভনে যুবক পাচার: লিবিয়ায় আটক, টাকা-জমি আত্মসাতের অভিযোগ
ইতালি প্রলোভনে যুবক পাচার: লিবিয়ায় আটক, টাকা-জমি আত্মসাত

ইতালি যাওয়ার প্রলোভনে যুবক পাচার: লিবিয়ায় আটক, টাকা-জমি আত্মসাতের অভিযোগ

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় ইতালি পাঠানোর মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে এক যুবককে বিদেশে পাচার করে বিপুল অঙ্কের টাকা ও জমি আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. মিনহাজ মিয়ার বাবা মনিরুজ্জামান মিয়া বাদী হয়ে চারজনকে আসামি করে মানবপাচার প্রতিরোধ আইনে মামলা করেছেন।

মামলার আসামি ও গ্রেফতার

মামলার আসামিরা হলেন মানবপাচারকারী চক্রের প্রধান মনির সরদার (৪৮), তার স্ত্রী পপি আক্তারী (৩৫), এবং তার দুই সহযোগী জসিম সরদার (৪৭) ও রেজাউল কাজী (৫৫)। এদের সবার বাড়ি ভাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে। পুলিশ বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে মানবপাচার চক্রের সদস্য জসিম সরদারকে গ্রেফতার করেছে এবং শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে ফরিদপুর জেল হাজতে পাঠিয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পাচার প্রক্রিয়া ও আর্থিক শোষণ

অভিযোগ অনুযায়ী, লিবিয়ায় অবস্থানরত মূল আসামি মনির সরদারের নির্দেশে তার স্ত্রী ও সহযোগীরা বাংলাদেশে বসে অর্থ সংগ্রহ ও বিদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করেন। বাদী মনিরুজ্জামান মিয়া জানান, গত ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে প্রথম দফায় ২৬ লাখ টাকা পরিশোধ করার পর নভেম্বরে মিনহাজ মিয়াকে ঢাকা থেকে সরাসরি ইতালি না পাঠিয়ে দুবাই হয়ে লিবিয়ায় নিয়ে আটকে রাখা হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরবর্তীতে মিনহাজকে মাফিয়ার হাতে তুলে দিয়ে নির্যাতনের ভিডিও পাঠানো হয় এবং আরও ৬ লাখ টাকা দাবি করা হয়। নির্যাতনের ভয় দেখিয়ে চাপ সৃষ্টি করে ৭ শতাংশ জমি রেজিস্ট্রি ও নগদ অর্থসহ নগদ ৬ লাখ টাকা তুলে দেওয়া হয়। বাদী বলেন, "আমার ছেলের কোনো খোঁজ পাচ্ছি না। চক্রটি পরে আরও ১৮ লাখ টাকা দাবি করেন।"

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভুক্তভোগীর বক্তব্য ও উদ্বেগ

মনিরুজ্জামান মিয়া আরও বলেন, ৩২ লাখ টাকা নেওয়ার পরও তার ছেলেকে দেশে ফেরত না পাঠিয়ে পুনরায় আরও টাকা দাবি করা হয়। বর্তমানে তার ছেলের সঙ্গে প্রায় ৪ মাস ধরে কোনো যোগাযোগ করতে পারছেন না। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, "আমাদের ধারণা টাকার জন্য আমার ছেলেকে হত্যা করেছে। আমি এ ঘটনা সঠিক বিচার চাই।"

তিনি দাবি করেন, এই চক্রটি অনেক মানুষের নিকট থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এবং অনেক লোকজনের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি, যা মানবপাচার চক্রের ব্যাপকতা নির্দেশ করে।

পুলিশের বক্তব্য ও তদন্ত

এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার ওসি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, মানবপাচার প্রতিরোধ আইনে চারজনকে আসামি করে একটি মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, "বিষয়টি মানবপাচার চক্রের আন্তর্জাতিক সংযোগ থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে পুরো ঘটনার প্রকৃত চিত্র জানা যাবে।"

পুলিশের অভিযান ও তদন্ত চলমান থাকায় আশা করা হচ্ছে, শীঘ্রই অন্য আসামিরা গ্রেফতার হবে এবং পাচার চক্রের নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া সম্ভব হবে।