কুমিল্লার হোমনায় স্বামীর সামনে স্ত্রীকে ছিনিয়ে গণধর্ষণ: মধ্যযুগীয় বর্বরতার প্রতিচ্ছবি
কুমিল্লার হোমনায় স্বামীর সামনে থেকে স্ত্রীকে ছিনিয়ে নিয়ে গণধর্ষণের এক জঘন্য ঘটনায় গোটা এলাকায় তোলপাড় চলছে। এ ঘটনাকে সচেতন মহল মধ্যযুগীয় বর্বরতার প্রতিচ্ছবি হিসেবে আখ্যায়িত করছেন এবং দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন।
ঘটনার বিবরণ
বুধবার রাতে হোমনা পৌর এলাকার কৃষি কলেজের অদূরে এ সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৮ বছর বয়সী ভুক্তভোগী নারী ও তার স্বামী হোমনা সদরের একটি ভাড়া বাসায় থাকেন। ওই রাত সাড়ে ৯টার দিকে তারা একটি অটোরিকশা নিয়ে তিতাস উপজেলায় বাবার বাড়ি যাচ্ছিলেন।
পথে কৃষি কলেজ এলাকা পার হওয়ার পর ওপারচর গ্রামের কিশোর গ্যাং লিডার আশিকুর রহমান (২৪) ও তার ছয়-সাতজন সহযোগী দুটি মোটরসাইকেল নিয়ে দম্পতির পথ রোধ করেন। অভিযুক্ত যুবকেরা দম্পতিসহ অটোরিকশাটিকে জোরপূর্বক একটি নির্জন ইটের রাস্তায় নিয়ে যান।
সেখানে আশিকুর রহমান ও তার দুই সহযোগী ওই নারীকে স্বামীর কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়। অন্যরা তার স্বামী ও অটোরিকশার চালককে দূরে সরিয়ে নিয়ে যান। এ সময় আশিকুর রহমান ওই গৃহবধূকে ধর্ষণ করেন।
গ্রেফতার ও তদন্ত
পুলিশ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শুক্রবার তিনজনকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করেছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন: কামাল হোসেন (২২), শরীফুল ইসলাম (২৩) এবং সিয়াম (২০)।
হোমনা থানার ওসি টমাস বড়ুয়া বলেন, "মূলত বখাটে আশিকুর রহমানের নেতৃত্বে এ ধর্ষণকাণ্ড ঘটেছে। আমরা তদন্ত করে এবং ভিকটিমের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সম্পর্কে অবগত হয়েছি। তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মূল ধর্ষককে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।"
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও হোমনা থানার এসআই আনিস উদ্দিন জানান, "আমরা জড়িত অপর আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা করছি। ভুক্তভোগী নারীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে।"
সচেতন মহলের প্রতিক্রিয়া
নারী নেত্রী আলেয়া বেগম এ ঘটনাকে মধ্যযুগীয় বর্বরতা বলে উল্লেখ করে বলেন, "সভ্য যুগে এটা অবাস্তব। এমন ঘটনা আগে রূপকথার গল্প হিসেবে আমরা শুনতাম। কিন্তু হোমনায় স্বামীর কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে স্ত্রীকে ধর্ষণের ঘটনাটি রূপকথার গল্পকেও হার মানায়।"
কুমিল্লা এইডের নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া বেগম শেফালী বলেন, "অত্যন্ত জঘন্যতম একটি ঘটনা ঘটেছে। এটা কল্পনার বাইরে। এ ঘটনায় সচেতন মহলকে বাকরুদ্ধ করেছে। ঘটনায় জড়িতদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।"
ঘটনাটি এখন হোমনা উপজেলাসহ গোটা জেলায় টক অব দ্যা ডিস্ট্রিক্টে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এ ধরনের বর্বরতার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন।



