প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার ও গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে জাতীয় সেমিনারে জোরালো আহ্বান
প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার ও গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে সেমিনার

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে জাতীয় সেমিনার

বাংলাদেশে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকারের প্রশ্নে গণমাধ্যমে আরও নিয়মিত, গভীর ও প্রতিনিধিত্বমূলক কাভারেজ নিশ্চিত করার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা। তাঁরা উল্লেখ করেন, জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা শক্তিশালী করতে নাগরিক সংগঠন ও গণমাধ্যমের মধ্যে আরও কাঠামোগত ও টেকসই সহযোগিতা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

সেমিনারের প্রেক্ষাপট ও আয়োজন

‘এক্সপ্যান্ডিং সিভিক স্পেস থ্রু অ্যাকটিভ সিএসও পার্টিসিপেশন অ্যান্ড স্ট্রেংথেন্ড গভর্ন্যান্স সিস্টেম ইন বাংলাদেশ (ইসিএসএপি)’ প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এক জাতীয় সেমিনারে এসব মতামত প্রকাশ করা হয়। গণমাধ্যম ও যোগাযোগবিষয়ক উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান ‘সমষ্টি’ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে, যেখানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহ-অর্থায়নে ক্রিশ্চিয়ান এইড প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ও সঞ্চালনা করেন সমষ্টির নির্বাহী পরিচালক মীর মাসরুরুজ্জামান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন, যিনি বলেন, “পিছিয়ে পড়া মানুষের উন্নয়নে সরকার কাজ করলেও তাদের বাস্তব পরিস্থিতি বুঝতে গবেষণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে নীতিনির্ধারণ আরও কার্যকর করা সম্ভব।”

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গবেষণার মূল ফলাফল ও চ্যালেঞ্জ

‘জবাবদিহি নিশ্চিতে প্রান্তিক কণ্ঠস্বর জোরালো করা: নাগরিক সংগঠন ও গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক গবেষণার মোড়ক উন্মোচন করা হয় এই সেমিনারে। সমষ্টির গবেষণা পরিচালক রেজাউল হক গবেষণার সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন। গবেষণায় দেখা যায়:

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  • প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বিষয়গুলো গণমাধ্যমে অনিয়মিতভাবে এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে ঘটনাভিত্তিকভাবে প্রতিফলিত হয়।
  • এর ফলে তাদের দৈনন্দিন বাস্তবতা, কাঠামোগত বৈষম্য এবং সেবাসংক্রান্ত সমস্যাগুলো জাতীয় আলোচনায় ধারাবাহিকভাবে জায়গা করে নিতে পারে না।
  • সংবাদ উপস্থাপনায় প্রেক্ষাপট ও গভীরতার ঘাটতি এবং কমিউনিটির নিজস্ব কণ্ঠস্বরের সীমিত উপস্থিতিও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।

গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়, নাগরিক সংগঠন ও গণমাধ্যমের মধ্যে যোগাযোগ থাকলেও তা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অনানুষ্ঠানিক, বিচ্ছিন্ন ও প্রকল্পভিত্তিক। ফলে টেকসই ও কৌশলগত সহযোগিতা গড়ে ওঠে না। সময় ও সম্পদের সীমাবদ্ধতা, সম্পাদনানীতির প্রভাব এবং সংবেদনশীল বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করার ঝুঁকিও সংবাদ কাভারেজকে প্রভাবিত করে।

সুপারিশ ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ

গবেষণায় প্রাপ্ত সুপারিশে বলা হয়, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বরকে কার্যকরভাবে জনপরিসরে তুলে ধরতে হলে নাগরিক সংগঠন, গণমাধ্যম এবং সরকারি ও উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আরও সমন্বিত ও কাঠামোগত উদ্যোগ প্রয়োজন। এর মধ্যে রয়েছে:

  1. যোগাযোগকে কর্মসূচির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দেখা।
  2. প্রমাণভিত্তিক তথ্য ও গল্প উপস্থাপন জোরদার করা।
  3. স্থানীয় পর্যায়ের সাংবাদিকতা ও অংশগ্রহণমূলক গণমাধ্যম প্ল্যাটফর্মকে শক্তিশালী করা।
  4. তথ্যপ্রবাহকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহজলভ্য করা।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রোগ্রাম ম্যানেজার লায়লা জেসমিন বানু প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন এবং গণমাধ্যমকর্মীদের আরও সংবেদনশীল হওয়ার আহ্বান জানান। ইউনেস্কো বাংলাদেশের প্রতিনিধি সুজান ভাইস বলেন, “মূলধারার গণমাধ্যমের পাশাপাশি কমিউনিটি রেডিও ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভূমিকা বাড়ছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় মূলধারার গণমাধ্যমকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।”

অন্যান্য বক্তাদের মতামত

ক্রিশ্চিয়ান এইডের পার্টনারশিপ ও স্ট্র্যাটেজি লিড নুজহাত জাবিন বলেন, গণমাধ্যম ও উন্নয়ন সংস্থার মধ্যে বিদ্যমান দূরত্ব কমিয়ে প্রান্তিক মানুষের কণ্ঠস্বরকে আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম উল্লেখ করেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বঞ্চনার পাশাপাশি তাদের অর্জনগুলোও গণমাধ্যমে তুলে ধরা জরুরি।

এনজিও–বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক মো. খলিলুর রহমান খান এবং জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মুহাম্মদ হিরুজ্জামানসহ অন্যান্য বক্তারা নাগরিক সংগঠন, গণমাধ্যম, সরকার ও উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তাঁদের মতে, এর মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বিষয়গুলো আরও সুসংগঠিতভাবে জনপরিসরে উঠে আসবে এবং জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা শক্তিশালী হবে।