সিরাজগঞ্জে ৫ বছরের শিশু হত্যার মর্মান্তিক ঘটনা: চাচাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায় এক মর্মান্তিক ঘটনায় ৫ বছর বয়সী এক শিশুকে কুপিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে তার আপন চাচাদের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকালে উপজেলার গালা ইউনিয়নের মার্জান গ্রামে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়, যা এলাকায় তীব্র শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
নিহত শিশু মাহতাব হোসেন হৃদয় ফারুক হোসেনের ছেলে। পরিবারের সদস্যদের বর্ণনা অনুযায়ী, শাহজাদপুর উপজেলার গালা ইউনিয়নের মার্জান গ্রামের মৃত হাতেমের ছেলে হামেদ আলী বাড়িতে টয়লেট নির্মাণের জন্য ফারুক হোসেনের গোয়াল ঘরের পাশে মাটি ফেলার সময় নিষেধ করলে দুজনের মধ্যে তর্ক বাধে। এক পর্যায়ে এই তর্ক হাতাহাতিতে রূপ নেয়, যা পরবর্তীতে ভয়াবহ রক্তপাতের দিকে মোড় নেয়।
হামেদের পক্ষ নিয়ে তার অন্য ভাই পেশকার, আশকার, হাকিম এবং মোক্তার লাঠিসোঁটা এবং চাপাতি নিয়ে এগিয়ে আসলে, ফারুক হোসেন তার সন্তান হৃদয়কে কোলে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু হামেদ চাপাতি দিয়ে কোপ শুরু করলে, ফারুকের কোল থেকে শিশু হৃদয় মাটিতে পড়ে যায়। এসময় ফারুক হোসেন দৌড়ে পালাতে সক্ষম হলেও, ৫ বছর বয়সী মাহতাব হোসেন হৃদয়কে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।
উদ্ধার ও মৃত্যু: এক করুণ পরিণতি
প্রতিবেশীরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, হাসপাতালে নেওয়ার পথেই শিশুটি মারা যায়, যা পরিবার ও এলাকাবাসীর জন্য এক বেদনাদায়ক মুহূর্ত হিসেবে রয়ে গেছে। এই ঘটনায় নিহত হৃদয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে, অভিযুক্ত হামেদ, পেশকার, আশকার, মোক্তার ও হাকিম বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছে বলে জানা গেছে।
পুলিশের তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপ
শাহজাদপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. নাজমুল কাদের ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় জানান, খবর পাওয়ার পর শাহজাদপুর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়া, এই ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে, যা আশা জাগায় যে দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
এই ঘটনা সিরাজগঞ্জে শিশু নিরাপত্তা ও পারিবারিক সহিংসতার গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে, যা স্থানীয় সম্প্রদায়কে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। পুলিশ ও প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছেন এলাকাবাসী।



