নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাত বছরের শিশুর ওপর ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় এক বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরীর বিরুদ্ধে সাত বছরের শিশুকে জোর করে জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকাল ৫টার দিকে এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ জনতার রোষানল থেকে অভিযুক্ত শাহজাহানকে পুলিশ আটক করেছে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশুটি ওই গ্রামে তার নানির বাড়িতেই থাকত। ন্যক্কারজনক এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং ভুক্তভোগী পরিবারসহ এলাকাবাসী অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী শিশুর নানি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "ঘটনার দিন শিশুটি স্কুল থেকে ফিরে অন্য এক মেয়ে শিশুর সঙ্গে খেলাধুলা করছিল। একপর্যায়ে তারা বাড়ির পাশের খেজুর গাছ থেকে খেজুর কুড়াতে যায়। এ সময় অভিযুক্ত শাহজাহান ও তার এক সহযোগী শিশু দুটিকে দেখতে পায়। দুরভিসন্ধি নিয়ে তারা শিশুদের ডাকতে থাকে, কিন্তু শিশুরা যেতে অস্বীকৃতি জানায়। এরপর হঠাৎ করেই অভিযুক্ত শাহজাহান শিশুটির মুখ চেপে ধরে এবং জোরপূর্বক টেনে-হিঁচড়ে পাশের জঙ্গলে শুকনো দীঘির (পুকুর) ভেতরে নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটিকে শারীরিক নির্যাতন ও নিপীড়ন শুরু করে সে। এ সময় দুই শিশুর চিৎকারে আশপাশের মানুষ ছুটে আসেন। আমার নাতির সঙ্গে এমন আচরণের উপযুক্ত বিচার চাই।"
অভিযুক্তের পটভূমি ও এলাকার প্রতিক্রিয়া
এলাকাবাসী ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অভিযুক্ত শাহজাহান নিয়মিত মাদকসেবী এবং এলাকায় তার ব্যাপক দুর্নাম রয়েছে।
প্রতিবেশী এক নারী জানান, শাহজাহানের নিজের স্ত্রী ও চার সন্তান রয়েছে। নিয়মিত মাদকসেবন ও অমানুষিক নির্যাতনের কারণে মাস খানেক আগে তার স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে গেছে।
পুলিশের বক্তব্য ও আইনানুগ পদক্ষেপ
দুর্গাপুর থানার ওসি মো. কামরুল হাসান আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো লিখিত কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত চলছে বলে জানা গেছে। শিশু অধিকার সংগঠনগুলোও ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত বিচারের দাবি তুলেছে।



