আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় আজ, গ্রেপ্তার আসামিদের ট্রাইব্যুনালে আনা হয়েছে
আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় আজ, গ্রেপ্তার আসামি আনা

আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় আজ, গ্রেপ্তার আসামিদের ট্রাইব্যুনালে আনা হয়েছে

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। এই হত্যাকাণ্ডে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় আজ বৃহস্পতিবার ঘোষণা করা হবে। রায় উপলক্ষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তা কিছুটা বাড়ানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার আসামিদের ট্রাইব্যুনালে আনা

আজ সকাল ৯টার দিকে গ্রেপ্তার আসামিদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনা হয়েছে। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই রায় ঘোষণা করবেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

এ মামলার মোট ৩০ জন আসামির মধ্যে ছয়জন গ্রেপ্তার আছেন। তাঁরা হলেন:

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  • বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম
  • সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল
  • রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের সাবেক চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী মো. আনোয়ার পারভেজ
  • পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন
  • সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়
  • নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ

পলাতক আসামিদের তালিকা

বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক উপাচার্য মো. হাসিবুর রশীদসহ এ মামলার ২৪ জন আসামি পলাতক রয়েছেন। পলাতক আসামিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন:

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  1. রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মো. মশিউর রহমান
  2. লোকপ্রশাসন বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মন্ডল
  3. রংপুর মহানগর পুলিশের (আরপিএমপি) সাবেক কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান
  4. আরপিএমপির সাবেক উপকমিশনার মো. আবু মারুফ হোসেন
  5. চিকিৎসক মো. সরোয়ার হোসেন (চন্দন)
  6. রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি পোমেল বড়ুয়া

মামলার পটভূমি ও তদন্ত

ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম গত মঙ্গলবার এক ব্রিফিংয়ে বলেন, "আবু সাঈদ জুলাই আন্দোলনে অন্যতম শহীদ। তিনি নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন। সারা জাতি, পৃথিবীর সব মানুষ সেটা অবলোকন করেছে। জাতিসংঘের প্রতিবেদনেও এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি উঠে এসেছে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে তদন্তে অকাট্য প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং আশা করা হচ্ছে অভিযোগ প্রমাণিত হবে।

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আবু সাঈদ গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। এই হত্যাকাণ্ডের ভিডিও সারা দেশে তোলপাড় সৃষ্টি করে, যাতে দেখা যায় পুলিশ তাঁর বুকে একের পর এক গুলি করছে। এ ঘটনা আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দেয় এবং দেশব্যাপী ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

বিচার প্রক্রিয়া

মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় গত বছরের ২৪ জুন ৩০ জনকে আসামি করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। ৬ আগস্ট আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয় এবং ২৭ আগস্ট সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। পরদিন আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন। চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয় এবং ২৭ জানুয়ারি যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পর থেকে মামলাটি রায়ের অপেক্ষায় ছিল।

আজকের রায় ঘোষণা দেশের ন্যায়বিচার ব্যবস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই রায়ের মাধ্যমে আবু সাঈদের পরিবার ও সমর্থকরা দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ন্যায়ের আশা করছেন।