জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় আজ
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় আজ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ঘোষণা করা হবে। এই মামলায় মোট ৩০ জন আসামি রয়েছেন, যাদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মো. হাসিবুর রশীদসহ ২৪ জন পলাতক এবং ৬ জন গ্রেফতার অবস্থায় আছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ রায় প্রদান করবেন।
ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটরের বক্তব্য
ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম গত মঙ্গলবার এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের জানান, আবু সাঈদ জুলাই আন্দোলনের অন্যতম শহীদ যিনি নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন যে সারা জাতি ও বিশ্ববাসী এই ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছে এবং জাতিসংঘের প্রতিবেদনেও এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি উঠে এসেছে। প্রসিকিউশন দল বিশ্বাস করে যে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে এবং তারা প্রত্যাশিত রায় পাবেন।
গ্রেফতার ও পলাতক আসামিদের তালিকা
গ্রেফতারকৃত ৬ জন আসামির মধ্যে রয়েছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের সাবেক চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী মো. আনোয়ার পারভেজ, পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক আমির হোসেন, সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় এবং নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ।
অন্যদিকে, পলাতক ২৪ জন আসামির মধ্যে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মো. হাসিবুর রশীদ, গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মো. মশিউর রহমান, লোকপ্রশাসন বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মন্ডল, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার মো. হাফিজুর রহমান, সাবেক সেকশন অফিসার মো. মনিরুজ্জামান পলাশ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এমএলএসএস মোহাম্মদ নুরুন্নবী মন্ডল।
হত্যাকাণ্ডের পটভূমি
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। তার হত্যার ভিডিওটি সারা দেশে তোলপাড় সৃষ্টি করে, যাতে দেখা যায় আবু সাঈদ দুই হাত প্রসারিত করে সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে আছেন এবং পুলিশ তার বুকে একের পর এক গুলি করছে। এই নির্মম হত্যাকাণ্ড আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দেয় এবং সারা দেশে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করে। আবু সাঈদকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ হিসেবে গণ্য করা হয়, এবং তার মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে।
আজকের রায় ঘোষণা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের দাবিতে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। এই রায়ের মাধ্যমে আবু সাঈদের পরিবার ও সমর্থকরা ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা করছেন, এবং এটি ভবিষ্যতে অনুরূপ অপরাধের বিরুদ্ধে একটি দৃঢ় বার্তা পাঠাতে পারে।



