রাজশাহীতে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের হুমকি ও পূজামণ্ডপে হামলার অভিযোগ
রাজশাহী মহানগরীতে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মনিরুজ্জামান শান্তের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তিনি বোয়ালিয়া (পশ্চিম) থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার বিরুদ্ধে গত বছর পূজামণ্ডপে হামলার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছিল, কিন্তু কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এবার প্রকাশ্যে এক বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তরুণীকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে নতুন মামলা হয়েছে।
তরুণীকে ধর্ষণের হুমকি ও পুলিশের ভূমিকা
রাজশাহীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর অভিযোগ, গত শনিবার সন্ধ্যায় শান্ত তাকে প্রকাশ্যে ধর্ষণের হুমকি দিয়েছেন। তিনি প্যান্টের চেইন খুলে অশালীন আচরণ করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। ঘটনাটি বড়কুঠি পদ্মারপারে আয়োজিত রাজশাহী লিটারারি ফেস্টিভ্যালের সময় ঘটে। তরুণী ও তার বন্ধু মোটরসাইকেল পার্কিংয়ের টিকিট নিতে অস্বীকৃতি জানালে শান্ত তাদের গালিগালাজ করেন এবং পরে হুমকি দেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বোয়ালিয়া থানায় অভিযোগ দাখিল করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে শান্ত পুলিশের সামনেই তরুণীকে কটুক্তি করেন বলে অভিযোগ। থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কক্ষেও তরুণীকে আপত্তিকর কথা বলা হয়। প্রথমে পুলিশ মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানালেও পরের দিন সকালে মামলা রেকর্ড করা হয়। মামলায় শান্ত, তার ভাই মো. শুভ ও অজ্ঞাত তিন-চারজনকে আসামি করা হয়েছে।
পূজামণ্ডপে হামলার পুরনো মামলা
গত বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি ফুদকিপাড়া এলাকায় সরস্বতী পূজার মণ্ডপে হামলার ঘটনায় শান্তসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। হিন্দু-বৌদ্ধ কল্যাণ ফ্রন্টের মহানগরের সাধারণ সম্পাদক অশোক কুমার সাহা এই মামলা করেন। অভিযোগে বলা হয়, হামলাকারীরা লাঠিসোটা নিয়ে পূজারীর ওপর হামলা করে এবং প্যান্ডেল ও সাউন্ডবক্স ভাঙচুর করে। তবে এক বছর পরও এই মামলায় কোনো অগ্রগতি হয়নি এবং কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।
স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিক্রিয়া ও পুলিশের ব্যাখ্যা
মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দল বিবৃতি দিয়ে অভিযোগগুলোকে মিথ্যা ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে উল্লেখ করেছে। দলের আহ্বায়ক মীর তারেক বলেছেন, ঘটনাটি পার্কিংয়ের টাকা নিয়ে তর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ এবং এত বড় নয়। তিনি পুরনো মামলার বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
বোয়ালিয়া থানার ওসি রবিউল ইসলাম জানান, শান্তকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে গ্রেফতার করা যায়নি, যদিও তার মোবাইল ফোন চালু আছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে তরুণীর অভিযোগের সত্যতা মিলেছে বলে দাবি করা হয়েছে। পুরনো মামলার তদন্তকারী উপপরিদর্শক শরিফুল ইসলাম বলেছেন, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং সাক্ষাতে বিস্তারিত বলবেন।
সম্প্রদায়িক উত্তেজনা ও আইনের শাসন
এই ঘটনাগুলো রাজশাহীতে সম্প্রদায়িক উত্তেজনা ও আইনের শাসন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ভুক্তভোগী ও বাদীরা অভিযোগ করেন, পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতারা আসামিকে রক্ষা করছেন। সমাজের বিভিন্ন মহল থেকে দ্রুত বিচার ও গ্রেফতারের দাবি উঠছে। এই পরিস্থিতি স্থানীয় শান্তি-শৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচারের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।



