মানিকগঞ্জে ভাইয়ের হাতে ভাই খুন: জমি বিরোধে প্রাণহানি, বিচার দাবিতে উত্তাল পরিবার
মানিকগঞ্জে ভাইয়ের হাতে ভাই খুন, বিচার দাবিতে উত্তাল পরিবার

মানিকগঞ্জে ভাইয়ের হাতে ভাই খুন: জমি বিরোধে প্রাণহানি, বিচার দাবিতে উত্তাল পরিবার

মাত্র তিন শতাংশ জমি ও একটি কক্ষের মালিকানা নিয়ে তুচ্ছ বিরোধই কেড়ে নিল এক প্রাণ। মানিকগঞ্জে ভাইয়ের হাতে ভাই খুনের মর্মান্তিক ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে পরিবার ও এলাকাবাসী। ঘটনার কয়েক দিন পেরিয়ে গেলেও আসামি গ্রেফতারে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও উঠছে তীব্র প্রশ্ন।

মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের ক্ষোভ

রোববার বেলা ১১টায় শহীদ রফিক সড়কের মানিকগঞ্জ প্রেস ক্লাব চত্বরে বজলুর রহমান রাবিল হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। পরে প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে ক্ষোভ, আতঙ্ক ও হতাশার কথা তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বন্ধু একাদশের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ কুমার শিকাদার রিপন।

ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা

নিহতের ছেলে সাকিবুল রহমান সাকিবের বক্তব্য অনুযায়ী, মানিকগঞ্জ সদরের দিঘী ইউনিয়নের নতুন বসতি গ্রামে পৈতৃক সম্পত্তির মাত্র তিন শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভাইদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জের ধরে গত ২৭ মার্চ ‘আলোচনার’ নামে ডেকে নিয়ে ঘরোয়াভাবে বসানো হয় রাবিলকে। কিন্তু আলোচনা আর আলোচনায় সীমাবদ্ধ থাকেনি— একপর্যায়ে ভাই ও ভাতিজারা মিলে তাকে বেদম মারধর করে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বাবাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে ছেলে সাকিবকেও রেহাই দেওয়া হয়নি। স্থানীয়দের সহায়তায় গুরুতর আহত অবস্থায় রাবিলকে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সাকিব আরও অভিযোগ করেন, হাসপাতালেও তাকে মারধর করা হয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নিহতের স্ত্রী আলেয়া আক্তার, বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নেতা মো. আলী আশরাফ, বন্ধু একাদশের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মামুন, সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ কুমার শিকদার রিপন, অ্যাডভোকেট সাইফুউদ্দিন আহমেদ ফিরোজ, সরকারি দেবেন্দ্র কলেজের সাবেক ভিপি গোলাম আবেদীন কায়ছারসহ পরিবারের সদস্যরা।

পরিবারের দাবি ও অভিযোগ

বক্তারা বলেন, এ হত্যাকাণ্ডে একটি পরিবার সম্পূর্ণভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। নিহতের স্ত্রী স্বামীকে হারিয়ে এবং সন্তানরা পিতাকে হারিয়ে অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। তারা দ্রুত হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন, জড়িতদের গ্রেফতার এবং সুষ্ঠু বিচারের মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।

নিহতের ছেলে সাকিব বলেন, "মাত্র তিন শতাংশ জমি আর একটি কক্ষের জন্য আমার বাবাকে প্রাণ দিতে হলো নিজের ভাইদের হাতে। এখন আমার ও আমার মায়ের জীবনও হুমকির মুখে। মামলা তুলে নিতে আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।" তিনি আরও অভিযোগ করেন, মামলার আসামিদের গ্রেফতারে এখনো কার্যকর কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই। এতে ভুক্তভোগী পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের আবেদন

ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা এবং প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন নিহতের ছেলে। সংবাদ সম্মেলন থেকে নিহতের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দ্রুত আসামি গ্রেফতার এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

এই ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে পারিবারিক সম্পত্তি বিরোধের ভয়াবহ পরিণতির একটি মর্মান্তিক দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছে স্থানীয় সমাজ।