রাজশাহীতে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে ধর্ষণের হুমকি: স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে মামলা
রাজশাহী নগরের বড়কুঠি এলাকার পদ্মা গার্ডেনে একটি সাহিত্য উৎসবে অংশ নেওয়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে প্রকাশ্যে ধর্ষণের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি গত শনিবার সন্ধ্যায় সংঘটিত হয় এবং এরপর থানায় অভিযোগ দিতে গিয়ে ছাত্রীটি পুলিশের হেনস্তার শিকার হন বলে দাবি করেছেন। অবশেষে, পুলিশ মামলা গ্রহণ করেছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
ঘটনার বিবরণ ও অভিযোগ
মামলার বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে, ছাত্রীটি তাঁর এক বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে 'প্রথম রাজশাহী লিটারারি ফেস্টিভ্যাল-২০২৬' দেখতে গিয়েছিলেন। অনুষ্ঠানস্থলের প্রবেশমুখে মোটরসাইকেল রাখার টিকিট বিক্রির বিষয়ে প্রশ্ন তোলায় টিকিট বিক্রেতাদের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান শান্ত (৪২) এসে ছাত্রীটিকে গালাগাল করেন এবং অশালীন অঙ্গভঙ্গি করে ধর্ষণের হুমকি দেন বলে অভিযোগ।
ছাত্রীর বন্ধু প্রতিবাদ করলে মনিরুজ্জামান ও তাঁর অনুসারীরা তাদের মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেন। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তারা ঘটনাস্থল থেকে সরে আসেন। পরে ছাত্রীটি ফেসবুকে ঘটনা শেয়ার করেন এবং বোয়ালিয়া মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
পুলিশি গড়িমসি ও হেনস্তার অভিযোগ
ছাত্রীর দাবি, থানায় অভিযোগ দাখিলের পর পুলিশ প্রথমে মামলা নিতে গড়িমসি করে এবং জিডি করার প্রস্তাব দেয়। থানায় উপস্থিত হয়ে তিনি বিএনপির নেতা-কর্মীদের জেরার মুখে পড়েন এবং পুলিশের সামনেই হেনস্তার শিকার হন। এক সাংবাদিক ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে মারধরের শিকার হন এবং তাঁর ফোন থেকে ভিডিও মুছে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
রোববার সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা দেওয়ার পর পুলিশ ছাত্রীকে আবার থানায় ডেকে নেয় এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা গ্রহণ করে। মামলায় মনিরুজ্জামান শান্ত ও মো. শুভকে (৩২) আসামি করা হয়েছে, পাশাপাশি তিন থেকে চারজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযুক্তের বক্তব্য ও পুলিশের প্রতিক্রিয়া
মনিরুজ্জামান শান্ত প্রথম আলোকে বলেন, 'ঘটনাটি একটি সাধারণ তর্কবিতর্ক ছিল, যা বড় করে উপস্থাপন করা হচ্ছে। আমি সেখানে একজন ছেলেকে দু-একটি কথা বলেছি, তবে কারও সঙ্গে অশালীন আচরণ বা ধর্ষণের হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটেনি।' তিনি আরও দাবি করেন, ছাত্রীটি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না।
বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম মামলা নিশ্চিত করে জানান, আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হবে। মামলা নিতে বিলম্বের বিষয়ে তিনি বলেন, 'প্রাথমিক অভিযোগ মামলার উপযোগী ছিল না, পরে তদন্ত করে সংশোধন করে মামলা নেওয়া হয়েছে।' থানায় হেনস্তার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, 'থানায় অনেক লোকজন ছিল, তবে তা কাজে বাধা সৃষ্টি করেনি।'
ছাত্রীর দাবি ও বিচার চাওয়া
ছাত্রীটি প্রথম আলোকে বলেন, 'আমাকে প্রকাশ্যে ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয়েছে, পুলিশের সঙ্গে ঘটনাস্থলে গিয়ে আবার হেনস্তার শিকার হয়েছি, এবং থানাতেও নিরাপত্তা পাইনি। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।' তিনি আরও উল্লেখ করেন, পুলিশের সামনে ঘটনা ঘটলেও তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এই ঘটনায় স্থানীয় সম্প্রদায় ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে, এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে। রাজশাহী নগরীতে নারী নিরাপত্তা ও পুলিশি দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে এই মামলাকে কেন্দ্র করে।



