ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলনে জড়িত দুই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর
গত জানুয়ারি মাসে ইরানজুড়ে ছড়িয়ে পড়া সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় স্পর্শকাতর সামরিক স্থাপনায় হামলার দায়ে দুই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ আজ রোববার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। ফাঁসি হওয়া ব্যক্তিরা হলেন মোহাম্মদ আমিন বিগলারি এবং শাহিন ওয়াহিদিপারস্ত। ইরানি সংবাদ সংস্থাটি তাদের ‘শত্রু এজেন্ট’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
হামলার অভিযোগ ও বিচারিক প্রক্রিয়া
তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, বিক্ষোভ চলাকালে তারা তেহরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালায় এবং সেখানকার অস্ত্রাগার দখলের চেষ্টা করে। বিচারে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তাদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। উল্লেখ্য, অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে গত জানুয়ারিতে ইরানে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দ্রুতই দেশব্যাপী গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়, যা ইসলামি প্রজাতন্ত্রের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের দাবিতে সরব হয়ে ওঠে।
১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর দেশটিতে এটি অন্যতম রক্তক্ষয়ী সংঘাত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যেখানে হাজারো মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। তবে ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, সরকারকে উৎখাতের উদ্দেশ্যে বিদেশি এজেন্টরা এই বিক্ষোভে অনুপ্রবেশ করেছিল।
মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদন ও উদ্বেগ
এদিকে, গত সপ্তাহে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছিল, ২ এপ্রিল গজল হেসার কারাগারে আমির হোসেন হাতামি নামে এক কিশোরের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। একই প্রতিবেদনে বিগলারি ও ওয়াহিদিপারস্তসহ আলী ফাহিম এবং আবুল ফজল সালেহি শিয়াভাশানি নামক আরও দুই ব্যক্তির প্রাণদণ্ডের আশঙ্কার কথা জানিয়েছিল সংস্থাটি।
ইতোমধ্যেই বিগলারি ও ওয়াহিদিপারস্তের দণ্ড কার্যকর হওয়ায় বাকিদের ভাগ্য নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো। এই ঘটনা ইরানের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে এবং বিশ্বজুড়ে নজর কেড়েছে।



