১৮ বছর কারাগারে বাদল ফরাজী: প্রবাসীদের মানববন্ধনে মুক্তির দাবি
বাদল ফরাজীর মুক্তির দাবিতে প্রবাসীদের মানববন্ধন

১৮ বছর কারাগারে বাদল ফরাজী: প্রবাসীদের মানববন্ধনে মুক্তির দাবি

১৮ বছর ধরে কারাগারে থাকা বাদল ফরাজীর মুক্তির দাবিতে সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধন আহ্বান করা হয়েছে। এই আন্দোলনে মানবিক সংগঠন ‘প্রচেষ্টা ফাউন্ডেশন’ সরাসরি যুক্ত রয়েছে, এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের ব্যাপক সমর্থন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

প্রবাসীদের প্রতিবাদ ও সংহতি

বাদল ফরাজীর মুক্তির এই দাবি—সৌদি আরব, দুবাই, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রবাসীরা এই বিষয়ে সক্রিয়ভাবে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন এবং প্রশ্ন তুলছেন যে, নাম বিভ্রাটের কারণে একজন মানুষ কেন বছরের পর বছর কারাগারে অবস্থান করবেন। তাদের এই আন্দোলন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মনোযোগ আকর্ষণ করছে।

আন্দোলনে যুক্ত ব্যক্তিবর্গ ও সংগঠন

৬ এপ্রিলের এই কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করবেন ‘বাদলের কারাবাস’ গ্রন্থের লেখক রাহিতুল ইসলাম। তিনি জানান, এই মানববন্ধন থেকে সরকারের কাছে বাদল ফরাজীর মুক্তির দাবি জানানো হবে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে বাদল ফরাজী পরিবারের কাছে ফিরে যাবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। সংগঠনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা পাভেল বাবু স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, বাদল ফরাজি কোনো অপরাধী নন, তিনি পরিস্থিতির শিকার এক নিরপরাধ মানুষ। নামের আংশিক মিল থাকায় তাকে যেভাবে ১৮ বছর ধরে আটকে রাখা হয়েছে, তা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বাদল ফরাজীর কারাবাসের পটভূমি

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে দিল্লির একটি হত্যা মামলায় নাম বিভ্রাটের কারণে বাদল ফরাজীকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০১৮ সালে তাকে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়। বর্তমানে তিনি কাশিমপুর কারাগারে বন্দি রয়েছেন। চার বছর আগে তার সাজা শেষ হলেও দ্বিপাক্ষিক চুক্তির জটিলতায় তার মুক্তি প্রক্রিয়া আটকে আছে। এই পরিস্থিতিতে মানবাধিকার কর্মী, শিক্ষার্থী ও নাগরিকদের মানববন্ধনে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

এই আন্দোলনটি শুধুমাত্র একটি ব্যক্তির মুক্তির দাবিই নয়, বরং এটি মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের সমর্থন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা এই বিষয়ে গণসচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।