জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায়: বিশেষ কমিটির সুপারিশে অধ্যাদেশ বাতিলের ঝুঁকি
মানবাধিকার কমিশনের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায়: অধ্যাদেশ বাতিলের ঝুঁকি

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায়: বিশেষ কমিটির সুপারিশে অধ্যাদেশ বাতিলের ঝুঁকি

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা নতুন অধ্যাদেশের মাধ্যমে পুনর্গঠিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএইচআরসি) আবারও অনিশ্চয়তার ঝুঁকিতে পড়েছে। সংসদের একটি বিশেষ কমিটি সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশ অনুমোদনের বিপক্ষে সুপারিশ করায় কমিশনের বর্তমান কাঠামো টিকে থাকা নিয়ে এই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

অধ্যাদেশের পটভূমি ও বর্তমান পরিস্থিতি

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ২০২৫ সালের নভেম্বরে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন পুনর্গঠন ও ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নতুন একটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়। এরপর গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বিএনপি সরকার গঠন করে। বর্তমানে নতুন সরকারের জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন চলছে। সংবিধান অনুযায়ী, কোনও অধ্যাদেশ সংসদের প্রথম অধিবেশনের ৩০ দিনের মধ্যে অনুমোদন না পেলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়। সে হিসেবে আগামী ১২ এপ্রিলের মধ্যে অধ্যাদেশটি বিল আকারে সংসদে উত্থাপন না হলে এটি অকার্যকর হয়ে পড়বে।

কমিশনের সদস্যের প্রতিক্রিয়া ও সম্ভাব্য প্রভাব

এ বিষয়ে এনএইচআরসির সদস্য মো. নূর খান বলেন, নতুন অধ্যাদেশ অকার্যকর হলে বর্তমান কমিশনের পাঁচ সদস্যের নির্বাচন ও নিয়োগের যে কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছিল, তা আর বহাল থাকবে না। একইসঙ্গে সরকারি কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার বিরুদ্ধে তদন্ত পরিচালনার যে ক্ষমতা কমিশন পেয়েছিল, সেটিও বাতিল হয়ে যাবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নতুন অধ্যাদেশে কমিশনকে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে তদন্ত শুরু করা এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সংস্থার কাছ থেকে নথিপত্র তলব করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। তবে অধ্যাদেশ বাতিল হলে কমিশন আবার ২০০৯ সালের আইনের অধীনে আগের কাঠামোয় ফিরে যাবে বলেও জানান নূর খান।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিনি বলেন, "এতে মানবাধিকারকর্মীদের মধ্যে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে তা অনিশ্চয়তায় পড়েছে। নতুন আইনে কমিশনের স্বাধীনতা বজায় থাকবে কি না- এ মুহূর্তে তা স্পষ্ট নয়।"

বিশেষ কমিটির প্রতিবেদন ও সুপারিশ

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনা শেষে গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি তাদের প্রতিবেদন সংসদে জমা দেয়। কমিটির সভাপতি জয়নুল আবদিন ফারুক প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন।

প্রতিবেদনে চারটি অধ্যাদেশ বাতিল এবং আরও ১৬টি- যার মধ্যে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশও রয়েছে। এটির তাৎক্ষণিকভাবে বিল আকারে উত্থাপন না করার সুপারিশ করা হয়েছে। এসব অধ্যাদেশ ভবিষ্যতে পুনর্বিবেচনা করে সংশোধিত ও শক্তিশালী আইনের আকারে আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম ও স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ কমিটির সুপারিশের ফলে অধ্যাদেশ বাতিলের ঝুঁকি বাড়ায়, মানবাধিকার সুরক্ষার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।