নেত্রকোনায় গরু লুটে বাধা দিলে অন্তঃসত্ত্বার পেটে লাথি, মৃত সন্তান প্রসব
গরু লুটে বাধা দিলে অন্তঃসত্ত্বার পেটে লাথি, মৃত সন্তান

নেত্রকোনায় গরু লুটের সময় বাধা দিলে অন্তঃসত্ত্বার পেটে লাথি, মৃত সন্তান প্রসব

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। গরু লুটের সময় বাধা দেওয়ায় অন্তঃসত্ত্বা এক নারীর পেটে লাথি মারা হয়েছে, যার ফলে তিনি মৃত সন্তান প্রসব করেছেন। ঘটনাটি বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাত সাড়ে ৩টার দিকে হাটনাইয়া আলীপুর গ্রামে সংঘটিত হয়।

ঘটনার বিবরণ

ভুক্তভোগী রোকেয়া আক্তার (৩৮) ওই গ্রামের ওলিউল্লার স্ত্রী। তিনি ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন এবং আগামী ১৫ এপ্রিল তার স্বাভাবিক ডেলিভারি হওয়ার কথা ছিল। রাত সাড়ে ৩টার দিকে আংগুর মিয়াসহ ১৫ থেকে ২০ জন সশস্ত্র দল ওলিউল্লার বাড়িতে হামলা চালিয়ে গরু লুট করতে চেষ্টা করে। বাড়িতে পুরুষ মানুষ না থাকায় রোকেয়া তাদের বাধা দেন।

এ সময় আংগুর মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে রোকেয়ার পেটে লাথি মারেন। অন্য হামলাকারীরাও তাকে কিল-ঘুসি মেরে আহত করে। পেটে তীব্র ব্যথা শুরু হলে রোকেয়া চিৎকার করেন, যা শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। হামলাকারীরা তখন পালিয়ে যায়। কয়েক ঘণ্টা পর রোকেয়া মৃত সন্তান প্রসব করেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চিকিৎসা ও আইনি পদক্ষেপ

রোকেয়া ও নবজাতককে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসক নবজাতককে মৃত ঘোষণা করেন এবং রোকেয়াকে ভর্তি করে চিকিৎসা দেন। শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকালে রোকেয়ার স্বামী ওলিউল্লাহ বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।

এ ঘটনায় আংগুর মিয়া (৩২), রফিকুল ইসলাম (৩৩), তরিকুল মিয়া (৩৫), আনসার মিয়া (২২) ও মজিবর মিয়া (৫০) সহ নয়জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়েছে। অজ্ঞাত আরও বেশ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনার পর অভিযুক্তরা গা ঢাকা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পূর্বের সংঘর্ষ ও পুলিশি তদন্ত

জানা গেছে, ১৪ মার্চ ওলিউল্লার ভাগ্নের হাঁস নেমে আংগুর মিয়ার ডোবার পানি ঘোলা করাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয় এবং আংগুরের লোকজন হাঁস লুট করে নিয়ে যায়। পরে আংগুর মিয়ার পক্ষ থেকে করা মামলায় ওলিউল্লাহ ও তার পরিবারকে আসামি করা হয়।

এরপর থেকে ওলিউল্লার পরিবারের পুরুষ সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান। বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে পুলিশ ওলিউল্লার বাড়িতে অভিযান চালালেও কাউকে না পেয়ে ফিরে যায়। এরপরই রাত সাড়ে ৩টার দিকে হামলা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

মোহনগঞ্জ থানার ওসি মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, "নবজাতকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আমরা সরেজমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। অভিযোগটি আমলে নিয়ে মামলা রেকর্ড করা হচ্ছে এবং তদন্ত করে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

ওলিউল্লাহ বলেন, "এটি একটি পরিকল্পিত হত্যা। আমি এর বিচার চাই। তারা আগে আমাদের হাঁস লুট করেছে এবং মিথ্যা মামলা করেছে। আমাদের পালিয়ে থাকার সুযোগে গভীর রাতে হামলা চালিয়ে গরু লুট করতে গেছে। বাধা দেওয়ায় আমার স্ত্রীর পেটে লাথি মেরে গর্ভের সন্তানকে হত্যা করেছে।"

এ বিষয়ে আংগুর মিয়া ও অন্যান্য অভিযুক্তদের কাউকে পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে এবং ন্যায়বিচারের দাবি উঠেছে।