৫০ টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বে কিশোরকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেফতার ১
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে অটোরিকশা চার্জের ৫০ টাকা কম দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক কিশোরকে পিটিয়ে হত্যার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। নিহত ইমরান হোসেন (১৬) নামের এই কিশোর অটোরিকশা চালক ছিলেন। ঘটনায় পুলিশ একজনকে গ্রেফতার করেছে, তবে মূল অভিযুক্ত এখনো পলাতক রয়েছেন।
ঘটনার বিবরণ
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাত সাড়ে ৭টার দিকে জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুর (ঈশানকোনা) এলাকার বাদশাহ মিয়ার গ্যারেজে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ইমরান হোসেন গ্যারেজে অটোরিকশা চার্জ দিতে গিয়ে ৫০ টাকা কম দিতে চাইলে গ্যারেজ মালিক বাদশাহ মিয়া ও তার সহযোগী জাকির উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তারা রিকশার জিআই পাইপ, মুগুর ও সুপারি গাছের কঞ্চি দিয়ে ইমরানকে নির্মমভাবে মারধর শুরু করেন।
প্রচণ্ড আঘাতে ইমরান মাটিতে লুটিয়ে পড়লে আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে তার অবস্থার অবনতি ঘটলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে চার দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকাল ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
নিহতের পরিচয় ও পরিবারের অবস্থা
নিহত ইমরান হোসেন সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার দোহালিয়া ইউনিয়নের ভবানিপুর গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে। গত ৮ থেকে ৯ বছর ধরে তারা সপরিবারে সৈয়দপুর গ্রামে হাসন চেয়ারম্যানের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন। এই তরুণ অটোরিকশা চালক হিসেবে পরিবারের আয়ের উৎস ছিলেন, যার মৃত্যুতে পরিবারটি এখন চরম দুর্দশায় পড়েছে।
গ্রেফতার ও পুলিশি তদন্ত
এ ঘটনায় শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জগন্নাথপুর থানা পুলিশ অভিযুক্ত জাকিরকে (৩৫) তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে। জাকির সৈয়দপুর (ঈশানকোনা) এলাকার মৃত আব্দুর রূপের পুত্র। তবে মূল অভিযুক্ত বাদশাহ মিয়া এখনো পলাতক রয়েছেন। পুলিশ তার গ্রেফতারিতে তৎপরতা চালাচ্ছে।
জগন্নাথপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় নিহতের পিতা বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ ইতোমধ্যে জাকিরকে গ্রেফতার করেছে এবং লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিকে গ্রেফতার করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া ও বিচারের দাবি
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. লাকু মিয়া ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, "ঘটনার সময় আমি বারবার বারণ করলেও কিশোরটিকে তারা নির্মমভাবে আঘাত করে। হামলাকারীদের উপর্যুপরি আঘাতে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।" তার মতে, এই হত্যাকাণ্ড সম্পূর্ণ অমানবিক এবং দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া শুরু হওয়া উচিত।
নিহতের চাচা আকিদ আলী এ নির্মম হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তিনি পরিবারের পক্ষ থেকে আইনের আশ্রয় নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন এবং আশা করেন যে দোষীরা শাস্তি পাবে।
সম্প্রদায়ের উদ্বেগ ও নিরাপত্তা প্রশ্ন
এই ঘটনা স্থানীয় সম্প্রদায়ে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন যে মাত্র ৫০ টাকার জন্য একটি তরুণ জীবন নেওয়া কীভাবে ন্যায়সঙ্গত হতে পারে। এলাকাবাসী দ্রুত বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন নিশ্চিত করেছে যে তারা এই মামলাটিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক চেষ্টা করবে।



