মঞ্চ ২৪-এর ছয় দফা দাবি: নিরাপদ পরিবহন ও হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিতের হুঁশিয়ারি
সড়ক ও নৌপথে নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি হাদি হত্যা মামলার দ্রুত বিচারসহ ছয়টি দাবি উত্থাপন করেছে 'মঞ্চ ২৪' নামক সংগঠনটি। সংগঠনটি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, যদি এই দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন না হয়, তাহলে তারা জনগণকে নিয়ে 'নিরাপদ পরিবহন আন্দোলন' গড়ে তুলবে। এই হুঁশিয়ারি দিয়ে তারা সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি উপস্থাপন
শুক্রবার, ২৭ মার্চ তারিখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের সামনে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এই সম্মেলনে সংগঠনটির আহ্বায়ক ফাহিম ফারুকী লিখিত বক্তব্যে তাদের মূল দাবিগুলো তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিবহন ব্যবস্থার চরম অব্যবস্থাপনার কারণে একের পর এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটছে।
ফাহিম ফারুকী বলেন, "দৌলতদিয়া সহ বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে ২০টিরও বেশি বড় দুর্ঘটনায় বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। এসব ঘটনা নিছক দুর্ঘটনা নয়; বরং অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বহীনতার ফল।" তিনি আরও যোগ করেন যে, প্রাণহানির পর সরকার মাত্র ২৫ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা দিয়ে দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে, যা কোনোভাবেই যথেষ্ট নয়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সমন্বিত ও মানবিক উদ্যোগ গ্রহণের জোরালো আহ্বান জানান তিনি।
হাদি হত্যা প্রসঙ্গে তীব্র সমালোচনা
হাদি হত্যা মামলার প্রসঙ্গে ফারুকী বলেন, হত্যাকারীদের গ্রেফতার ইতিবাচক পদক্ষেপ হলেও তাদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। তিনি এই বিষয়ে সরকারের নিষ্ক্রিয়তা ও দায়িত্বহীনতার উপর কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির উপদেষ্টা লে. কর্ণেল ফেরদৌস আজিজও বক্তব্য রাখেন। তিনি আসামিদের সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার ঘটনাকে একটি সাজানো 'নাটক' বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, "বর্তমান সরকার সরাসরি দায়ী না হলেও আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের ওপরই বর্তায়।"
ছয় দফা দাবির বিস্তারিত বিবরণ
মঞ্চ ২৪ সংগঠনটি তাদের ছয় দফা দাবি স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করেছে, যা নিম্নরূপ:
- হাদি হত্যা মামলার আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনা: ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে হাদি হত্যা মামলার আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
- বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন: একটি নিরপেক্ষ উচ্চপর্যায়ের বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করতে হবে, যা ঘটনার সত্যতা ও দায়িত্ব নির্ধারণ করবে।
- সহযোগীদের চিহ্নিতকরণ: আসামিদের সীমান্ত অতিক্রমে সহযোগীদের চিহ্নিত করে প্রকাশ ও গ্রেফতার করতে হবে।
- বিশেষ আইনি বিশেষজ্ঞ সেল গঠন: ভারতে ইউএপিএ আইনের কারণে বিচার বিলম্ব এড়াতে বিশেষ আইনি বিশেষজ্ঞ সেল গঠনের দাবি জানানো হয়েছে।
- দৃশ্যমান অগ্রগতি ঘোষণা: ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে আসামিদের ফেরত আনার দৃশ্যমান অগ্রগতি বা রোডম্যাপ ঘোষণা করতে হবে।
- নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ: সড়ক ও নৌপথে নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে দুর্ঘটনা কমে আসে।
এই দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হলে সংগঠনটি জনগণকে নিয়ে ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তারা মনে করে, সরকার ও কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত, যাতে জনগণের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়।



