গফরগাঁওয়ে বাকপ্রতিবন্ধীকে পিটিয়ে হত্যা, ছাত্রদল নেতাসহ গ্রেফতার তিনজন
ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলায় এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বাকপ্রতিবন্ধী ভ্যানচালক আলম মিয়াকে (৩০) পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে স্থানীয় ছাত্রদল নেতাসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাত দেড়টায় গফরগাঁও থানার পড়শীপাড়া এলাকায় সংঘটিত হয়।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
পুলিশ ও নিহতের পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টার দিকে জমির সীমানা নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত হয়। আমান মিয়ার সঙ্গে সহরুদ্দিনের ঝগড়া শুরু হলে, বিবাদের একপর্যায়ে সহরুদ্দিনের বাকপ্রতিবন্ধী ছেলে আলম প্রতিপক্ষ আমান মিয়ার মা আছিয়া বেগমকে মারধর করেন।
এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় আমান মিয়া স্থানীয় গফরগাঁও ইউনিয়ন ছাত্রদলের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন আইকন, ইউপি সদস্য মো. আব্দুল কাদের লিটন এবং মাজাহারুল ইসলামের সহযোগিতায় আলমকে তার বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যান। পরে তারা আলমকে একটি কক্ষে আটকে রেখে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে।
গ্রেফতার ও পুলিশি তদন্ত
ঘটনার পর পুলিশ দিবাগত রাত দেড়টায় আলমের লাশ উদ্ধার করে। গফরগাঁও থানার ওসি আ স ম আতিকুর রহমান জানান, লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
গ্রেফতারকৃত তিনজন হলেন ইমরান হোসেন আইকন, মো. আব্দুল কাদের লিটন এবং মাজাহারুল ইসলাম। এরা সবাই একই এলাকার বাসিন্দা। নিহত আলম মিয়া ছিলেন পড়শীপাড়া এলাকার সহরুদ্দিনের ছেলে এবং পেশায় একজন ভ্যানচালক।
আইনি পদক্ষেপ ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া
এ ঘটনায় নিহত আলম মিয়ার বাবা সহরুদ্দিন বাদী হয়ে গফরগাঁও থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে দ্রুত বিচার দাবি করেছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তির প্রতি এমন সহিংসতা সমাজে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ প্রয়োজন।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, জমির বিরোধ এই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। তবে তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।



