জামালপুরে গরু চুরির অভিযোগে সালিসে মারধর, অপমানে মায়ের আত্মহত্যা
জামালপুর সদর উপজেলায় গরু চুরির অভিযোগে ছেলেকে না পেয়ে সালিসে মা-বাবাকে মারধরের ঘটনায় মায়ের আত্মহত্যা করেছেন। অপমান সহ্য করতে না পেরে মা জোছনা বেগম আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। এই ঘটনায় পুলিশ দুই সন্দেহভাজনকে আটক করেছে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান শুক্রবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের পূর্ব কুটামনি এলাকার মো. হৃদয় (১৯) ও গোলাম কিবরিয়া (২৮)। গত বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, গরু চুরির অভিযোগে সুজন নামের এক যুবককে না পেয়ে তার বাবা সুরুজ মিয়া ও মা জোছনা বেগমকে ধরে সালিসে মারধর করা হয়। এরপর অপমান সহ্য করতে না পেরে জোছনা বেগম আত্মহত্যা করেন।
মামলা ও তদন্তের প্রক্রিয়া
ওসি মিজানুর রহমান জানান, মারধরের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ওই দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। তারা আপাতত থানা হেফাজতে আছেন। মামলা হলে তাদের আদালতে পাঠানো হবে। মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
স্থানীয় সূত্রের বর্ণনা
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার গভীর রাতে প্রতিবেশী কাউসার মিয়ার গোয়ালঘরে গরু চুরির চেষ্টা হয়েছে, এমন অভিযোগে সুরুজ মিয়ার বাড়ি যান স্থানীয় কয়েকজন। তারা সুজনকে ধরে নেওয়ার চেষ্টা করলে তার মা-বাবা বাধা দেন। এ সময় ধস্তাধস্তির মধ্যে সুজন পালিয়ে যান। পরে বাবা সুরুজ মিয়া ও জোছনা বেগমকে ধরে কাউসারের বাড়ির উঠানে নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানে চুরির অভিযোগে আরও দুজনকে আনা হয়। অভিযোগ আছে, কেন্দুয়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য মোহাম্মদ নায়েব আলীর উপস্থিতিতে সালিসে সুরুজ মিয়াসহ তিনজনকে বেঁধে মারধর করা হয়। সুরুজকে রক্ষা করতে গেলে জোছনাকে মারধর ও অপমান করা হয়। একপর্যায়ে জোছনাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে স্বামীকে ছাড়িয়ে আনতে গেলে আবারও অপমান ও নির্যাতনের শিকার হন জোছনা। স্বজনদের ভাষ্য, সুরুজসহ তিনজনকে বেঁধে এলাকায় ঘোরানোর পর ইউপিতে নেওয়া হয়। এসব ঘটনায় অপমান সইতে না পেরে বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ি ফিরে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন জোছনা।
সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনা স্থানীয় সম্প্রদায়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। অনেকেই সালিসের নামে এমন মারধর ও অপমানের ঘটনাকে নিন্দা জানিয়েছেন। পুলিশ দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সালিস প্রক্রিয়ায় আইনের শাসন ও মানবাধিকার রক্ষার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। এই ঘটনা সামাজিক ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
আইনি পদক্ষেপ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
পুলিশ জানিয়েছে, তারা ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে এবং আরও তদন্ত চলছে। সম্ভাব্য অন্যান্য সন্দেহভাজনদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে। মামলা দায়ের হলে দ্রুত আদালতে পাঠানো হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
এই ঘটনায় পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোও ঘটনাটি তদন্তের দাবি জানিয়েছে।



