যুদ্ধাপরাধ মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আবদুল মান্নান হাওলাদারের কারাগারে মৃত্যু
মুক্তিযুদ্ধে সংঘটিত গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আবদুল মান্নান হাওলাদার (৮৬) কারাগারে মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাতে কেরানীগঞ্জে অবস্থিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মৃত্যুর বিস্তারিত বিবরণ
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. ফারুক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। কারারক্ষী মো. সুজন জানান, রাত ১১টার দিকে আবদুল মান্নান হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। কারা কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে রাত পৌনে ২টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সুজন আরও উল্লেখ করেন, আবদুল মান্নান মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলায় অবস্থিত।
মরদেহের ব্যবস্থাপনা ও আইনি প্রক্রিয়া
মো. ফারুক জানিয়েছেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হবে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
ট্রাইব্যুনালের রায় ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
জানা গেছে, ২০২৩ সালের ২০ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল আবদুল মান্নানসহ চার জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি আবু আহমেদ জমাদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলম। এই রায় যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।
আবদুল মান্নান হাওলাদারের মৃত্যু কারাগারে স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে, তবে এটি যুদ্ধাপরাধ মামলার আসামিদের ভাগ্য নিয়ে আলোচনা তৈরি করেছে। তার মৃত্যু বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধ বিচার প্রক্রিয়ার একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি নির্দেশ করে, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে আইনি লড়াই চলছিল।



