তসলিমা নাসরিনের আকুতি: মোস্তফা ফারুকীর নিষেধাজ্ঞা আলোচনায় নিজের দেশে ফেরার অধিকার প্রশ্ন
বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন আবারও বাংলাদেশে ফেরার অধিকার নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব হয়েছেন। সম্প্রতি নির্মাতা ও সাবেক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার গুঞ্জন নিয়ে যখন দেশজুড়ে আলোচনা চলছে, ঠিক সেই মুহূর্তেই নিজের নির্বাসিত জীবন ও দেশে ফেরার অনিশ্চয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
ফেসবুক স্ট্যাটাসে তসলিমার সরব প্রশ্ন
শুক্রবার (২৭ মার্চ) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তসলিমা নাসরিন লেখেন, 'বাংলাদেশের লোকেরা ব্যস্ত মোস্তফা ফারুকীর দেশত্যাগে অনুমতি না থাকা নিয়ে। হোয়াট এবাউট আমার দেশে ফেরা? অনুমতি আছে নাকি নেই?' সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একটি নথিকে কেন্দ্র করে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি আলোচনায় আসে।
ফারুকী বিষয়ক নিষেধাজ্ঞার গুঞ্জন ও তদন্ত কমিটি
ওই নথিতে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুদান এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হয়েছে। একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনের সূত্র ধরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ খালেদ হাসানের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। আদেশের একটি অংশে ফারুকীসহ অভিযুক্তদের প্রয়োজনে জিজ্ঞাসাবাদ এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা উল্লেখ রয়েছে। যদিও এই নথির সত্যতা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি এবং সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি।
তসলিমা নাসরিনের দীর্ঘ নির্বাসনের ইতিহাস
দেশজুড়ে যখন একজন প্রভাবশালী ব্যক্তির দেশের বাইরে যাওয়ার পথ রুদ্ধ হওয়া নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই তসলিমা নাসরিন গত তিন দশক ধরে তার নিজের দেশে ফিরতে না পারার প্রসঙ্গ মনে করিয়ে দিলেন। তসলিমার এই আকুতি নতুন নয়; ১৯৯৪ সাল থেকে তিনি বিদেশের মাটিতে নির্বাসিত জীবন যাপন করছেন। তসলিমা নাসরিনের নির্বাসনের প্রেক্ষাপট দীর্ঘদিনের।
১৯৯৪ সালের মে মাসে কলকাতার 'দ্য স্টেটসম্যান' পত্রিকায় দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ধর্মীয় আইন ও কুরআন সংশ্লিষ্ট কিছু মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। তৎকালীন সময়ে ইসলামপন্থীরা তার ফাঁসির দাবিতে রাজপথে নামে এবং তাকে 'সাম্রাজ্যবাদী শক্তির দালাল' হিসেবে অভিহিত করে। এমনকি সিলেটে এক সমাবেশে তার মাথার দামও ঘোষণা করা হয়েছিল। তৎকালীন সরকার জনগণের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে তসলিমার বিরুদ্ধে মামলা করে এবং জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। দীর্ঘ দুই মাস আত্মগোপনে থাকার পর উচ্চ আদালতের নির্দেশে জামিন পেয়ে ১৯৯৪ সালের আগস্ট মাসে তিনি বাংলাদেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে তসলিমা নাসরিনের এই প্রশ্নটি দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনার সৃষ্টি করেছে। অনেকেই মনে করছেন, ফারুকীর নিষেধাজ্ঞার আলোচনা তসলিমার দীর্ঘদিনের নির্বাসিত জীবনের কথা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানাচ্ছে। অন্যদিকে, সরকারি মহল থেকে এখনো এই বিষয়ে কোনো স্পষ্ট বক্তব্য আসেনি। তসলিমা নাসরিনের দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্কের একটি জটিল অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



