সাবেক ডিজিএফআই প্রধান শেখ মামুনের গ্রেফতার: সিনিয়র সাংবাদিকের নির্যাতনের বর্ণনা
সাবেক ডিজিএফআই প্রধান গ্রেফতার: সাংবাদিকের নির্যাতন বর্ণনা

সাবেক ডিজিএফআই প্রধান শেখ মামুন খালেদের গ্রেফতার: সিনিয়র সাংবাদিকের নির্যাতনের মর্মস্পর্শী বর্ণনা

ক্ষমতার অপব্যবহার ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে আলোচিত সাবেক ডিরেক্টর জেনারেল ফরসেস ইন্টেলিজেন্স (ডিজিএফআই) প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তার বিরুদ্ধে গুম, খুনসহ নানা অপরাধের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন মহলে আলোচিত ছিল।

গ্রেফতার ও রিমান্ডের বিস্তারিত

বুধবার রাত সাড়ে বারোটার দিকে রাজধানীর পল্লবী থানার ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় মিরপুর মডেল থানা এলাকায় দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তাকে আসামি হিসেবে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার আদালত তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেন।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম-কমিশনার মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম বলেন, "মামলাসংশ্লিষ্ট বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি অতীতে তার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।"

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সিনিয়র সাংবাদিকের নির্যাতনের মর্মান্তিক অভিযোগ

এদিকে, সাবেক এই গোয়েন্দা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে মুখ খুলেছেন ভুক্তভোগী সিনিয়র সাংবাদিক সৈয়দ আবদাল আহমেদ। বৃহস্পতিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ৭০০ সাংবাদিকের বিবৃতি সংগঠিত করাই ছিল তার ‘অপরাধ’

বিস্তারিত বর্ণনা তুলে ধরে তিনি লেখেন, "লে. জেনারেল (অব.) মামুন খালেদ ব্রিগেডিয়ার হিসাবে ১/১১-র সময় ডিজিএফআই-এর মিডিয়া উইংয়ের দায়িত্বে থাকাকালীন আমাকে তার অফিসে ডেকে নিয়ে তৎকালীন লে. কর্নেল গোলাম মাওলাকে দিয়ে অমানবিক নির্যাতন করিয়েছিলেন। চৈত্রের তীব্র গরমের মধ্যে একটি আলো-বাতাসহীন দমবন্ধ হওয়ার মতো ঘরে বন্দি করে রাখেন।"

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নির্যাতনের করুণ চিত্র

ফেসবুক পোস্টের এক অংশে সৈয়দ আবদাল আহমেদ আরও লেখেন, "ডিজিএফআই থেকে আমাকে ডাকা হলো চিফ রিপোর্টারদের সঙ্গে একটি বৈঠকের কথা বলে। আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে, হয়তো জবাবদিহি করতে হবে। আমার সহকর্মী ও বন্ধু লে. রুশদকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে যাই। রুশদকে বলা হলো কিছুক্ষণ পরে সভা হবে, আপনি থাকার দরকার নেই। তিনি চলে গেলেন। এরপর লে. কর্নেল গোলাম মাওলার অমানবিক নির্যাতনের শিকার হলাম।"

তিনি আরও উল্লেখ করেন, "আমার বাবা একজন আলেমে দ্বীন ছিলেন। মসজিদের একজন খতিব ও পীর সাহেব হিসাবে সারা জীবন আদর্শ জীবনযাপন করেছেন, মানুষের কল্যাণ করে গেছেন। কিন্তু ওই আর্মি অফিসার আমার বাবাকে উদ্দেশ করে, এমন একজন আলেমে দ্বীনকে উদ্দেশ করে যে ভাষায় গালাগাল করেছিলেন, আমার তখন মনে হলো, এর চেয়ে আমার মরণ হলো না কেন?"

পরিবার ও পেশাগত জীবনের ওপর প্রভাব

সেদিনের ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে সৈয়দ আবদাল আহমেদ বলেন, "সেদিন স্কুল থেকে ছেলেকে বাসায় নেওয়ার দায়িত্ব ছিল আমার। কিন্তু ডিজিএফআই-এর অফিসে আটক থাকায় বাসায় বা স্কুলে খবর দিতে পারিনি। ফলে স্কুল কর্তৃপক্ষ ছুটির কয়েক ঘণ্টা পর ছেলেটিকে বাড়ি পৌঁছায়।"

অফিস এবং বাসা থেকে তার খোঁজ শুরু হলে লে. রুশদ সাংবাদিকদের জানান এবং ডিজিএফআই অফিসে যোগাযোগ করেন। বিষয়টি সাংবাদিকদের মধ্যে জানাজানি হওয়ার পর তারা রাতে প্রেস ক্লাব থেকে বিক্ষোভ মিছিল করার সিদ্ধান্ত নেন। এ খবর পেয়ে ডিজিএফআই রাতে অবশেষে তাকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

বিচারের প্রত্যাশা

সৈয়দ আবদাল আহমেদ তার পোস্টের শেষে মর্মস্পর্শী মন্তব্য করেন, "তবে এত বছর পর আজ সেই মামুন খালেদ তাদের সেই ঘৃণ্য অপকর্মের জন্য ধরা পড়েছেন, খবরটি দেখে খুব ভালো লাগছে। পাপের জন্য কিছুটা হলেও প্রায়শ্চিত্ত করুন মামুন খালেদ।"

এই ঘটনা বাংলাদেশের গণমাধ্যম ও মানবাধিকার ইতিহাসের একটি অন্ধকার অধ্যায়ের স্মৃতি জাগিয়ে তোলে। সাবেক ডিজিএফআই প্রধানের গ্রেফতার ও সিনিয়র সাংবাদিকের বিস্তারিত বর্ণনা দেশে ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।