লালমনিরহাটে বীর প্রতীককে আমন্ত্রণ না জানানোয় ক্ষোভ, প্রশাসন ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের বক্তব্য
বীর প্রতীককে আমন্ত্রণ না জানানোয় ক্ষোভ, প্রশাসন ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের বক্তব্য

লালমনিরহাটে বীর প্রতীককে আমন্ত্রণ না জানানোয় ক্ষোভের ঢেউ

লালমনিরহাট জেলার একমাত্র জীবিত খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন (অব.) আজিজুল হক (বীর প্রতীক)কে ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসের জেলা প্রশাসনের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন, যা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ইউনিট কমান্ড দাবি করেছে যে, ২৬ মার্চ সকালে আমন্ত্রণপত্র তাঁর বাসায় পাঠানো হয়েছে।

বীর প্রতীকের কষ্ট ও প্রশ্ন

ক্যাপ্টেন (অব.) আজিজুল হক বলেন, '১৯৭২ সাল থেকে যত দিন বেঁচে আছি, কোনো দিন আমাকে ২৬ মার্চের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি—এমনটা হয়নি। প্রশাসন সব সময় আমন্ত্রণ জানিয়েছে। কিন্তু ২০২৬ সালের ২৬ মার্চ প্রথমবারের মতো আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এটা অত্যন্ত কষ্টদায়ক ও দুঃখজনক। কারণটা বুঝলাম না। আমার অপরাধ কী? মুক্তিযুদ্ধ করা অপরাধ, নাকি স্বাধীনতাযুদ্ধে জড়িত থাকা অপরাধ? আমি লালমনিরহাটের একমাত্র জীবিত বীর প্রতীক। একজন বীর প্রতীক হিসেবে আমাকে আমন্ত্রণ না দেওয়া কি উচিত হয়েছে?'

তিনি আরও যোগ করেন, 'গত বছর এবং এ বছর শহীদ মিনারের অব্যবস্থাপনা নিয়ে আমি গণমাধ্যমে কথা বলেছি। সে কারণেও আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি মনে হয়। তবে প্রকৃত কারণ যা–ই হোক, আমাকে আমন্ত্রণ না জানানো সঠিক হয়নি।'

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্থানীয় নেতা ও কর্মীদের প্রতিক্রিয়া

সাংস্কৃতিককর্মী রিয়াজুল হক সরকার বলেন, 'এটা শুধু লালমনিরহাটবাসীর নয়, জাতীয় পর্যায়ে লজ্জার বিষয়। আমরা দেখে এসেছি, ১৯৭২ সাল থেকে প্রতিবছর তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এ বছর তা হয়নি, এটা হতাশাজনক।'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

লালমনিরহাট জেলা উন্নয়ন আন্দোলন পরিষদের আহ্বায়ক সুপেন্দ্র নাথ দত্ত বলেন, 'বীর প্রতীক ক্যাপ্টেন (অব.) আজিজুল হক লালমনিরহাটের গর্ব। তাঁকে আমন্ত্রণ না জানানো মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অবমাননা। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই।'

প্রশাসন ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের বক্তব্য

জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার দাবি করেছেন যে, মুক্তিযোদ্ধাদের আমন্ত্রণ জানানোর দায়িত্ব মুক্তিযোদ্ধাদেরই দেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, 'আমরা ৩০০টি আমন্ত্রণপত্র দিয়েছি এবং বলেছি, তাঁরা যেন সংশ্লিষ্ট মুক্তিযোদ্ধাদের আমন্ত্রণ জানান। কারা কাকে আমন্ত্রণ দিয়েছেন, তা তাঁরাই ভালো বলতে পারবেন।'

লালমনিরহাট জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ইউনিট কমান্ডের ডেপুটি কমান্ডার মো. হোসেন আলী বলেন, '২৪ মার্চ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ৩০০টি আমন্ত্রণপত্র পেয়েছি। গ্রামের মুক্তিযোদ্ধাদের আগে এবং শহরের মুক্তিযোদ্ধাদের ২৬ মার্চ সকালে আমন্ত্রণপত্র দেওয়া হয়েছে। বীর প্রতীক আজিজুল হকের বাসায়ও ২৬ মার্চ সকালে আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দেওয়া হয়।'

২৬ মার্চের দিন সকালে আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি মন্তব্য করেন, 'এতগুলো আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দিতে সময় লাগে। হাতে সময় কম ছিল।'

সামগ্রিক প্রভাব ও আলোচনা

এই ঘটনা লালমনিরহাটে একটি বিতর্কের সৃষ্টি করেছে, যেখানে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ও স্বাধীনতা দিবসের গুরুত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনাকে জাতীয় পর্যায়ের একটি লজ্জাজনক বিষয় হিসেবে দেখছেন। অনেকের মতে, বীর প্রতীকদের প্রতি এই ধরনের আচরণ মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধকে ক্ষুণ্ণ করে।

এই পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসন ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব দেখা দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।