নরসিংদীর মাধবদীতে চার সন্তানের মা দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার, এক আসামি গ্রেপ্তার
নরসিংদীতে মা দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার, এক গ্রেপ্তার

নরসিংদীর মাধবদীতে চার সন্তানের মা দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার

নরসিংদী জেলার মাধবদী উপজেলায় এক ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে, যেখানে চার সন্তানের এক মা (৪০) দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। গত শুক্রবার ভুক্তভোগী ওই নারী মাধবদী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন, যেখানে অজ্ঞাতনামা চারজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার মাধবদী থানাধীন একটি গ্রামে এই নিষ্ঠুর ঘটনা ঘটে। পুলিশ ইতিমধ্যে হৃদয় (৩০) নামের একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে, যিনি ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

ভুক্তভোগীর ব্যক্তিগত জীবন ও ঘটনার পটভূমি

ওই নারীর বাড়ি নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজারের একটি গ্রামে। তাঁর স্বামী প্রবাসী হিসেবে কাজ করছেন। চার সন্তানের মধ্যে তিন মেয়েকে তিনি ইতিমধ্যে বিয়ে দিয়েছেন এবং এক মেয়েকে নিয়ে নরসিংদীর মাধবদীর একটি এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন। এই ঘটনা তাঁর জীবনকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, এবং তিনি এখন চিকিৎসা ও আইনি সহায়তা পাচ্ছেন।

পুলিশের তদন্ত ও গ্রেপ্তার

মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামাল হোসেন জানিয়েছেন, ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করার পর পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে হৃদয় নামের আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। তিনি ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। পুলিশ এখন অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে। ভুক্তভোগী নারীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে, যাতে তাঁর শারীরিক অবস্থার মূল্যায়ন করা যায় এবং প্রমাণ সংগ্রহ করা সম্ভব হয়।

মামলার এজাহারে উল্লিখিত ঘটনার বিবরণ

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ঈদের কাপড় কিনতে মেয়েকে নিয়ে ওই নারী নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে যান। কেনাকাটা শেষে মেয়েকে বাড়ি পাঠিয়ে দেন তিনি। এরপর মুঠোফোনে পরিচিত এক ব্যক্তির সঙ্গে দেখা করতে যান মাধবদীর একটি গ্রামে। ওই ব্যক্তি ‘বউ বিদেশে আছে’ জানিয়ে তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দেন, কিন্তু নারী রাজি না হওয়ায় ব্যক্তি তাঁকে রাস্তা থেকে টেনে একটি পুকুরপাড়ে নিয়ে যান। সেখানে ওই ব্যক্তিসহ আরও তিনজন মিলে তাঁকে ধর্ষণ করেন। ধর্ষকেরা ওই নারীর মুঠোফোন ও সঙ্গে থাকা টাকাপয়সাও ছিনিয়ে নেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর ভাষ্য ও আইনি পদক্ষেপ

ওই নারীর ভাষ্য অনুযায়ী, আড়াইহাজারের এক ব্যক্তির সঙ্গে তিন-চার দিন ধরে মুঠোফোনে কথাবার্তা হচ্ছিল। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে আড়াইহাজারে কেনাকাটা করতে যাওয়ার কথা শুনে ওই ব্যক্তি দেখা করতে চান। পরে মেয়েকে বাড়িতে পাঠিয়ে অটোরিকশায় করে ওই ব্যক্তির ঠিকানায় যান তিনি। সেখানে ওই ব্যক্তিসহ চারজন ধর্ষণ করেন। এই ঘটনায় ন্যায়বিচার চেয়ে গত শুক্রবার তিনি নিজেই বাদী হয়ে মাধবদী থানায় মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ এখন তদন্ত জোরদার করেছে এবং আশা করা হচ্ছে, শীঘ্রই অন্য আসামিরাও গ্রেপ্তার হবে।