মুক্তিযোদ্ধা হত্যা মামলার আসামি আবুল কালাম দাড়িয়া কোটালীপাড়া মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের আহ্বায়ক
মুক্তিযোদ্ধা হত্যা মামলার আসামি কোটালীপাড়া কাউন্সিলের আহ্বায়ক

মুক্তিযোদ্ধা হত্যা মামলার আসামি আবুল কালাম দাড়িয়া কোটালীপাড়া মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের আহ্বায়ক

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা হত্যা মামলার আসামি আবুল কালাম দাড়িয়া। এই নিয়োগের ফলে উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে এই কমিটি ভেঙে দেওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন উক্ত হত্যা মামলার রায় দ্রুত বাস্তবায়নের জোর দাবি জানিয়েছেন।

কমিটি গঠন ও বিতর্কের সূত্রপাত

সম্প্রতি কোটালীপাড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে নির্বাচিত হন আবুল কালাম দাড়িয়া, যিনি ১৯৭৩ সালের ১০ মার্চ সংঘটিত বীর মুক্তিযোদ্ধা ওয়ালিউর রহমান লেবু, কমলেশ বেদজ্ঞ, বিষ্ণুপদ কর্মকার ও রামপ্রসাদ চক্রবর্তী মানিক হত্যা মামলার ৩ নম্বর আসামি হিসেবে চিহ্নিত।

এই মামলায় মোট ২৩ জন আসামি ছিলেন, যাদের মধ্যে বর্তমানে মাত্র তিনজন জীবিত আছেন—ফারুকুজ্জামান সরদার (২ নম্বর আসামি), আবুল কালাম দাড়িয়া (৩ নম্বর আসামি) এবং মিলন সরদার (৭ নম্বর আসামি)। বাকি ২০ জন আসামি ইতোমধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন। মামলাটি দায়ের হয়েছিল ১৯৭৩ সালের ১১ মার্চ, এবং দীর্ঘ ৫৩ বছর পরও এর চূড়ান্ত বিচার সম্পন্ন হয়নি।

মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া

মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান শেখ বলেন, "আমাদেরকে না জানিয়ে রাতের আধারে একজন বিতর্কিত ব্যক্তিকে আহ্বায়ক করে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে এই কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠনের দাবি করছি।"

মামলার বাদি ও কমলেশ বেদজ্ঞের মেয়ে সুতপা বেদজ্ঞ বলেন, "আমি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে এই ভেবে লজ্জাবোধ করছি যে, একজন খুনিকে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। আমি দ্রুত সময়ের মধ্যে এই কমিটি ভেঙে দেওয়ার জন্য জোরদাবি জানাচ্ছি।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, তার পিতা ও অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যার বিচার না পাওয়ায় পরিবারটি গভীর বেদনায় রয়েছে।

আবুল কালাম দাড়িয়ার বক্তব্য

আহ্বায়ক আবুল কালাম দাড়িয়া তার নিয়োগ সম্পর্কে বলেন, "রাতের আধারে কমিটি গঠনের কথাটি সত্য নয়। কোটালীপাড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সকল সদস্যের মতামতের ভিত্তিতে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে।" হত্যা মামলার বিষয়ে তিনি দাবি করেন, "১৯৭৩ সালের ১০ মার্চ ৪ বীর মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যার ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত ছিলাম না। আমাকে শত্রুতাবশত আসামি করা হয়েছিল। এই মামলার প্রকৃত আসামিরা কেউই জীবিত নেই।"

জেলা কাউন্সিলের প্রতিক্রিয়া

জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক ফিরোজ খান বলেন, "কোটালীপাড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের বেশ কিছু সংখ্যক মুক্তিযোদ্ধাদের উপস্থিতিতে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম দাড়িয়া যে হত্যা মামলার আসামি, এটা আমার জানা ছিল না। এখন আমরা জেলা আহ্বায়ক কমিটির দায়িত্বরত মুক্তিযোদ্ধারা আলোচনার মাধ্যমে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব।"

এই ঘটনাটি মুক্তিযোদ্ধা সমাজে একটি বড় বিতর্কের সৃষ্টি করেছে, যা দ্রুত সমাধানের দাবি রাখে। স্থানীয় পর্যায়ে ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করা হচ্ছে।