পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নে পাঁচ দাবি, অ-পাহাড়ি প্রতিমন্ত্রী প্রত্যাহারের আহ্বান
পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নে পাঁচ দাবি, প্রতিমন্ত্রী প্রত্যাহার চাই

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি উত্থাপন

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলন আজ মঙ্গলবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। এই সম্মেলনে সরকারের কাছে পাঁচটি সুনির্দিষ্ট দাবি পেশ করা হয়, যার মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে অ-পাহাড়ি প্রতিমন্ত্রীকে প্রত্যাহার করার আহ্বান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত প্রধান দাবিসমূহ

আন্দোলনের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, সরকারের উচিত পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করতে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে অ-পাহাড়ি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনকে প্রত্যাহার করে নেওয়া এবং এই দপ্তর পুনর্বণ্টন করা।
  • চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট সময়সূচিভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা।
  • অনতিবিলম্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরীবিক্ষণ কমিটি পুনর্গঠন করা।
  • পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সঙ্গে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সংলাপ আয়োজন করা।
  • দ্রুততম সময়ে পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনকে কার্যকর করা।

বিএনপির রেইনবো নেশন ধারণার প্রতি সমর্থন

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের যুগ্ম সমন্বয়কারী অধ্যাপক খায়রুল ইসলাম চৌধুরী। বক্তব্যে উল্লেখ করা হয় যে, বিএনপি ৩১ দফা কর্মসূচির মাধ্যমে বহুজাতির সম্প্রীতিমূলক সমন্বিত রাষ্ট্রসত্তা বা রেইনবো নেশন বিনির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষ এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। এই রেইনবো নেশনের ভিত্তি মজবুত করতে সরকারকে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তৎকালীন ও বর্তমান সরকারের ভূমিকার প্রতি প্রত্যাশা

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, ২০০১ সালে চুক্তি বাস্তবায়নপ্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া রাষ্ট্রনায়কোচিত ভূমিকা রেখেছিলেন। আন্দোলন প্রত্যাশা করে যে, নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও এই পদাঙ্ক অনুসরণ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নপ্রক্রিয়া সচল রাখতে বিচক্ষণ ভূমিকা রাখবেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ

এই সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির, আদিবাসী অধিকারকর্মী দীপায়ন খীসা, এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের যুগ্ম সমন্বয়কারী জাকির হোসেন প্রমুখ। তাদের উপস্থিতি এই আন্দোলনের ব্যাপকতা ও গুরুত্বকে আরও তুলে ধরে।

পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে বর্তমানে মন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন দীপেন দেওয়ান, এবং প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। আন্দোলনের দাবি অনুযায়ী, এই প্রতিমন্ত্রীর পদটি চুক্তির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।