প্রথম আলো ভবনে 'আলো' প্রদর্শনী: হামলার স্মৃতি ও প্রতিরোধের বার্তা
সংঘবদ্ধ উগ্রবাদীদের হামলার শিকার প্রথম আলো ভবনে ব্যতিক্রমী শিল্পকর্ম প্রদর্শনী 'আলো' চলছে, যা দর্শনার্থীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অবস্থিত আক্রান্ত ও অগ্নিদগ্ধ ভবনে আয়োজিত এই প্রদর্শনীটি হামলার ভয়াবহতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরছে। গতকাল শুক্রবারও অনেক দর্শনার্থী প্রদর্শনী দেখতে এসেছিলেন, যা আগামী ২ মার্চ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
দর্শনার্থীদের প্রতিক্রিয়া ও সমর্থন
প্রদর্শনীর দশম দিনে মানবাধিকারকর্মী হামিদা হোসেন ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন ভবন পরিদর্শন করেন। হামিদা হোসেন বলেন, 'যারা হামলা করেছে, তারা সাংঘাতিক খারাপ কাজ করেছে। এটা সবাইকে দেখানো দরকার।' ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান সকালে এসে ফেসবুকে লিখেছেন, এই আয়োজন সাহসী ও অনুপ্রেরণামূলক।
গুলশান সোসাইটির সভাপতি ওমর সাদাত বলেন, 'যখন প্রথম আলোর ভবন পুড়ছিল, তখন মনে হচ্ছিল, আমি পুড়ছি।' তিনি মবকে শুরুতেই থামানোর আহ্বান জানান। প্রকৌশলী কাজী জাহিদুল হাসান বলেছেন, প্রদর্শনীর মাধ্যমে হামলার রাতের ভয়াবহতা সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রতিষ্ঠানিক ব্যক্তিত্বদের মতামত
জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার এই হামলাকে 'অচিন্তনীয়' বলে উল্লেখ করে বলেন, প্রদর্শনী না দেখলে ভয়াবহতা বোঝা যেত না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক শওকত হোসেন ধ্বংসস্তূপ থেকে শিল্পকর্ম আয়োজনের প্রশংসা করেন।
লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, 'প্রথম আলোর ওপর হামলা বাংলাদেশের ওপর হামলা। প্রথম আলো বাংলাদেশেরই কণ্ঠস্বর।' সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী প্রহ্লাদ দেবনাথ হামলার নৃশংসতা উপলব্ধি করেছেন বলে জানান।
প্রদর্শনীর বিবরণ ও প্রতীকী উপস্থাপনা
ভবনে প্রবেশ করতেই পোড়া গন্ধ অনুভূত হয়। প্রদর্শনীতে পুড়ে ছাই হওয়া ভবনের চিত্রকর্ম, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গাড়ি, পুড়ে যাওয়া কম্পিউটারসামগ্রী ও আসবাব রাখা হয়েছে। দোতলায় পোড়া ও অক্ষত বই প্রদর্শিত হয়েছে, যেখানে লেখা 'এই মহাসাগরে স্নান করে জাগোরে'। সাদা কফিন দিয়ে ধ্বংসস্তূপের ওপর প্রতীকী উপস্থাপনা করা হয়েছে।
তৃতীয় তলায় পুড়ে যাওয়া লোহালক্কড় ও বৈদ্যুতিক তার, এবং চতুর্থ তলায় হামলার ভিডিও চিত্র ও লুটপাটের দৃশ্য দেখানো হচ্ছে। ভাঙচুর করা জিনিসপত্রের ওপর কবুতরের ঝাঁক রাখা হয়েছে, যা শান্তি ও পুনরুজ্জীবনের প্রতীক। প্রদর্শনী প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে ১টা এবং ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত।
