নরসিংদীতে ধর্ষণ চাপা দিতে কিশোরী হত্যার অভিযোগ, মামলায় নয় আসামি
নরসিংদীর মাধবদীতে একটি ধর্ষণের ঘটনা চাপা দিতে ধর্ষণের শিকার কিশোরীকে বাবার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে নিহত কিশোরীর মা বাদী হয়ে মাধবদী থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় নয় জনকে আসামি করা হয়েছে এবং ইতিমধ্যে চার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে মূল অভিযুক্ত নূরা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনার বিবরণ ও ধর্ষণের পটভূমি
পুলিশ, নিহত কিশোরীর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয়ভাবে বখাটে হিসেবে পরিচিত নূরা নামের এক তরুণের সঙ্গে কিশোরীর কথাবার্তা হতো। প্রায় ১৫ দিন আগে ভাড়া বাসায় ফেরার পথে কিশোরীর মুখ চেপে ধরে তুলে নিয়ে যায় নূরার নেতৃত্বে পাঁচ-ছয় জন তরুণ। তখন তাকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা।
এ ঘটনার বিচারের জন্য মহিষাশুড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য আহমদুল্লাহর কাছে যায় কিশোরীর পরিবার। তবে তারা বিচার পায়নি এবং পরিবারটিকে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়েছিল। এদিকে সাবেক ইউপি সদস্যের কাছে অভিযোগ করায় ক্ষুব্ধ হয় নূরাসহ ওই তরুণরা।
হত্যার ঘটনা ও পুলিশের তদন্ত
বুধবার রাতে মেয়েকে খালার বাড়িতে রেখে আসতে যাচ্ছিলেন বাবা। পথে বিলপাড় এলাকায় পৌঁছালে নূরার নেতৃত্বে ছয় জন তরুণ ওই কিশোরীকে বাবার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। রাতভর বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও কিশোরীর সন্ধান পাননি পরিবারের সদস্যরা।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বিলপাড় ও দড়িকান্দি এলাকার মাঝামাঝি একটি সরিষা ক্ষেতে কিশোরীর লাশ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। খবর পেয়ে মাধবদী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহতের স্বজনরা জানান, বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা মেয়েকে নিয়ে খালার বাড়ি যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে বড়ইতলা এলাকায় পৌঁছালে পাঁচজন যুবক মেয়েটিকে বাবার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়। পরে পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজির পর তাকে না পেয়ে বাড়ি ফিরে আসে। বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ সরিষা ক্ষেত থেকে মেয়েটির মরদেহ উদ্ধার করে।
মামলা ও গ্রেফতার
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন জানিয়েছেন, ধর্ষণের ঘটনায় নয় জনকে আসামি করে মামলা দায়েরের পর চার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তবে মূল অভিযুক্ত নূরা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ ঘটনায় স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পুলিশ দ্রুত তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। নিহত কিশোরীর পরিবার ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছে এবং আশা করছে যে দোষীদের দ্রুত শাস্তি দেওয়া হবে।
