ঢাবি টিএসসিতে লাঠি হাতে নারীকে আক্রমণ: আসামি হত্যা মামলার রাকিব, গ্রেফতার হয়নি
ঢাবিতে নারী আক্রমণ: আসামি রাকিব, গ্রেফতার হয়নি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লাঠি হাতে নারীকে আক্রমণ: আসামি রাকিবের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা, গ্রেফতার হয়নি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) টিএসসি এলাকায় লাঠি হাতে এক নারীর দিকে তেড়ে আসা এক তরুণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ওই তরুণের নাম রাকিব (২০)। তিনি গাজীপুরে সংঘটিত একটি হত্যা মামলার প্রধান আসামি হিসেবে চিহ্নিত।

আসামির পরিচয় ও শিক্ষাগত যোগসূত্র

রাকিব গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর এলাকার আবদুর রহিমের ছেলে। তিনি ঢাবির বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র হিসেবে নথিভুক্ত। ভাইরাল হওয়া রাকিবকে পুলিশ গ্রেফতার করছে না বলে অভিযোগ করেছেন মামলার বাদী মহিউদ্দিন আবির।

ভিডিওতে ধারণকৃত ঘটনার বিবরণ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দুই নারীকে দেখা যায়। তাদের মধ্যে একজনের দিকে লাঠি হাতে তেড়ে গিয়েছিলেন রাকিব। ভুক্তভোগী ওই নারী কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘মারেন, মারেন না কেন? মারেন। এটা আপনার জায়গা, এটা আমাদের জায়গা। এটা বিশ্ববিদ্যালয়, ওকে। এখানে সবার আসার রাইট আছে।’ জানা গেছে, পুরান ঢাকায় সেহরি খেয়ে টিএসসিতে ঘুরতে এসেছিলেন ওই নারী। একপর্যায়ে তাকে হেনস্তা করা হয়।

হত্যা মামলার পটভূমি ও অভিযোগ

জানা গেছে, সফিপুরের পশ্চিমপাড়া এলাকায় সাব্বির আহমেদকে (২০) কুপিয়ে ১০ তলা ভবনের ছাদ থেকে ফেলে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় নিহতের বড় ভাই মহিউদ্দিন আবির বাদী হয়ে কালিয়াকৈর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। সেই মামলায় রাকিব ও তার জমজ ভাই সাকিবকে আসামি করা হয়।

মামলার বাদী আবির বলেন, “আমি শতভাগ নিশ্চিত, নারীর দিকে তেড়ে আসা তরুণ আমার ছোট ভাই সাব্বির আহমেদ হত্যা মামলার আসামি রাকিব। সে হত্যা মামলার আসামি হলেও পুলিশ তাকে গ্রেফতার করছে না।”

তদন্তে ব্যর্থতা ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

তিনি আরও বলেন, “হত্যা মামলাটি কালিয়াকৈর থানায় প্রায় চার মাস ছিলো। এর মধ্যে পুলিশ আসামি ধরতে ব্যর্থ হয়। তারা ইচ্ছাকৃতভাবে আসামি ধরে নাই। তারা ব্যর্থতা দেখিয়ে মামলাটি গাজীপুর ডিবিতে ট্রান্সফার করে। মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা গাজীপুর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) শাখার এসআই শংকর। তারা দৌড়াদৌড়ি করেছে, আমিও তার চাইতে বেশি দৌড়াদৌড়ি করেছি। কিন্তু এসআই শংকর ইচ্ছে করে আসামি ধরে নাই।”

বাদী আরও উল্লেখ করেন, “রাকিবকে ঢাবির ছাত্র সংসদের ভিপি প্রার্থী ছাত্রদল মনোনীত আবিদুল ইসলামের সঙ্গে ক্যাম্পাসে প্রচারণায় দেখা গেছে। নরসিংদীর ড্রিম হলিডে পার্কে তাকে দেখা গেছে। তদন্ত কর্মকর্তাকে এসব জানালেও তাকে ধরে নাই। পরবর্তীতে মামলার চার্জশিট দিয়ে দিলো।”

তিনি অভিযোগ করেন, “চার্জশিট এখন পর্যন্ত কোর্টে যায় নাই। কোর্ট থেকে বলতেছে, আপনার এখানে নোটিশ আসবে চার্জশিট পাঠিয়ে দিয়েছে আরেক জেলায়। এটা তারা ইচ্ছাকৃতভাবে করেছে। আসামির একজন চাচা আছে সাব-ইন্সপেক্টর মোজাম্মেল। উনি মূলত এটাকে কলকাঠি নাড়াইতেছে। এখন মামলার কোনও অগ্রগতি নাই। কিন্তু ওরে খুঁজতেছিলাম।”

বাদীর হতাশা ও পুলিশের প্রতিক্রিয়া

মামলার বাদী বলেন, “গত পরশু রাকিবের একটা ভিডিও দেখলাম। ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর থেকে তাকে আর পাওয়া যাচ্ছে না। সাব্বির মারা গেছে দেড় বছর। এর মধ্যে আমি কোর্টের বারান্দায়ও পাড়া দিতে পারিনি এখনও।”

এ বিষয়ে গাজীপুর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ওসি হাসমত উল্লাহ বলেন, “আমি দায়িত্ব নেওয়ার আগেই সাব্বির হত্যা মামলার চার্জশিট দেওয়া হয়ে গেছে। খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে টিএসসি এলাকায় লাঠি হাতে নারীর দিকে তেড়ে আসা তরুণ রাকিব কিনা।”

এই ঘটনায় ন্যায়বিচার ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করছেন সংশ্লিষ্টরা।