ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জমি বিরোধে কুপিয়ে হত্যা: সৎ ভাইসহ দুইজন গ্রেফতার
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। নিহত রতন মিয়া (৫০) নামের ওই ব্যক্তির সৎ ভাই ও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে এ হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ ইতিমধ্যে প্রধান আসামি মিলন মিয়া (৬৫) ও তার স্ত্রী রোসনা আক্তারকে (৫৫) গ্রেফতার করেছে।
ঘটনার বিবরণ
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার দিকে কসবা পৌরসভার আড়াইবাড়ি গ্রামে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। নিহত রতন মিয়া ওই গ্রামের আব্দুল কাদেরের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি বিকালে পাশের বিলে জমিতে কাজ করছিলেন। এ সময় অভিযুক্তরা সেখানে গিয়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে গুরুতর জখম করে কুপিয়ে ফেলে রেখে যায়।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা রতন মিয়াকে উদ্ধার করে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়।
মামলা ও গ্রেফতার
ঘটনায় নিহতের স্ত্রী জামেনা আক্তার বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় নিহতের সৎ ভাই মিলন মিয়াকে প্রধান আসামি করে মোট চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশ বৃহস্পতিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে মিলন মিয়া ও তার স্ত্রী রোসনা আক্তারকে গ্রেফতার করে।
অপর আসামিদের মধ্যে রয়েছেন তাদের ছেলে রিফাত মিয়া (৩২), সিফাত মিয়া (২৪) এবং খালাতো ভাই সামির মিয়া (১৮)। পুলিশ জানিয়েছে, অপর আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
নিহতের বড় মেয়ে আইরিন ইসলাম দাবি করেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। কসবা পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মো. আবু সাঈদ বলেন, জমি নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল এবং স্থানীয়ভাবে একাধিকবার শালিস হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি।
পুলিশের বক্তব্য
কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজনীন সুলতানা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, জমি–সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে এবং প্রধান আসামিসহ দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এ ঘটনা স্থানীয়ভাবে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত জোরদার করেছে। জমি বিরোধের মতো সামান্য বিষয়ে এ ধরনের সহিংসতা সমাজে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে বলে স্থানীয়রা মন্তব্য করেছেন।
