আইন ও সালিশ কেন্দ্রের উদ্বেগ: পুলিশের নির্দেশনা আইনের শাসনের পরিপন্থি
কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ‘অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা’ নেওয়ার নির্দেশনা এবং জামিনে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ‘শ্যোন-অ্যারেস্ট’ বা অন্য মামলায় আবারও গ্রেফতার দেখানোর নির্দেশের বিষয়টি আইনের শাসনের পরিপন্থি বলে মনে করছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংস্থাটি এই ধরনের নির্দেশনার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
পুলিশের নির্দেশনার আইনি প্রশ্ন
আসকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জ পর্যায়ের লিখিত নির্দেশনায় জামিনপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ‘দলকে শক্তিশালী বা সংগঠিত করার সক্ষমতা’ বিবেচনায় পুনরায় গ্রেফতার দেখানোর কথা বলা হয়েছে। এই ধরনের নির্দেশনা আইনের শাসন, ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সংস্থাটি জোর দিয়ে বলেছে, কোনও নাগরিকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রমাণ থাকলে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব; কিন্তু পরিকল্পিতভাবে হয়রানি বা পূর্বধারণার ভিত্তিতে পুনরায় গ্রেফতার আইনি ও গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থি।
সুশাসন ও মানবাধিকারের চ্যালেঞ্জ
আইন ও সালিশ কেন্দ্র মনে করে, পুলিশ কর্তৃপক্ষ এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের এখতিয়ার ও জবাবদিহির ভিত্তি কী তা স্পষ্ট নয়। একটি নবনির্বাচিত সরকারের সুশাসন প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং সর্বস্তরে জবাবদিহি নিশ্চিত করার অঙ্গীকারের সঙ্গে এমন পদক্ষেপ সম্পূর্ণভাবে সাংঘর্ষিক। জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক সরকারের যাত্রা শুরু হয়েছে, এই প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রের প্রতিটি বিভাগ, বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর সংবিধানসম্মত ও মানবাধিকারসম্মত আচরণের দায়বদ্ধতা আরও বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
আইনি দাবি ও আহ্বান
আসক দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, বাংলাদেশ সংবিধান এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদগুলো নাগরিকের স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার ও আইনের সমান সুরক্ষার নিশ্চয়তা দেবে। কোনও নাগরিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যেমন জরুরি, তেমনই কাউকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানি করার এখতিয়ার কারও নেই। সংস্থাটি অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট নির্দেশনার আইনি ভিত্তি জনসম্মুখে প্রকাশ, এ সংক্রান্ত সব আদেশ ও প্রক্রিয়া পর্যালোচনা এবং সংবিধান ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানাচ্ছে। সেইসঙ্গে বেআইনি গ্রেফতার, হয়রানি বা শ্যোন-অ্যারেস্টের মতো চর্চা বন্ধ করে নাগরিকের ন্যায়বিচার, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও আইনের সমান সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছে।
