খুলনায় ব্যবসায়ী কাজী নিজাম উদ্দিনের নিখোঁজ হওয়ায় পরিবারের সংবাদ সম্মেলন ও উদ্বেগ
খুলনা-২ (সদর-সোনাডাঙ্গা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মিজানুর রহমানের জামাতা ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কাজী নিজাম উদ্দিন ওরফে সুজন নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পূর্ণ হয়েছে। এই ঘটনায় পরিবার চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের আহ্বান
কাজী নিজাম উদ্দিনকে উদ্ধারের দাবিতে আজ বুধবার খুলনা প্রেসক্লাবে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এই সম্মেলনে তাঁর বাবা ব্যবসায়ী কাজী আবদুস সোবহান উপস্থিত থেকে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তিনি বলেন, ২১ ফেব্রুয়ারি ইফতারের পর রাত আনুমানিক ৮টার দিকে তাঁর ছেলে নগরের পুলিশ লাইনস জামে মসজিদে তারাবিহর নামাজ আদায়ের জন্য বাসা থেকে বের হন। নামাজ শেষে প্রায় আধা ঘণ্টা পর তিনি মসজিদ থেকে বের হলেও, এরপর তাঁর আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
মসজিদের সিসিটিভি ফুটেজে তাঁকে সামনের রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেলেও, পরবর্তী অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। নামাজে যাওয়ার সময় তিনি মুঠোফোন বাসায় রেখে যান, ফলে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগের সুযোগ ছিল না। পরিবারের সদস্যরা আশপাশের বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে খোঁজ নিলেও, অনেকগুলো অচল থাকায় বিষয়টিকে রহস্যজনক বলে দাবি করেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত
নিখোঁজ হওয়ার পরদিন ২২ ফেব্রুয়ারি খুলনা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। পাশাপাশি র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে গুরুত্বসহকারে তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হলেও, এখনো কোনো অগ্রগতি পাওয়া যায়নি বলে পরিবার জানিয়েছে।
কাজী আবদুস সোবহান বলেন, তাঁর ছেলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাড়ি ছাড়া কোথাও যেতেন না। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে খুলনার সর্বোচ্চ করদাতা হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিও পেয়েছেন তাঁর ছেলে। এমন একজন মানুষ কোনো কারণ ছাড়াই নিখোঁজ হয়ে যাওয়াটা রহস্যজনক। পরিবারের দাবি, কাজী নিজাম উদ্দিন কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না এবং তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। তিনি পারিবারিক ব্যবসা পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন।
পরিবারের আবেদন ও পুলিশের প্রতিক্রিয়া
সংবাদ সম্মেলনে কাজী নিজাম উদ্দিনের মা, স্ত্রী ও পাঁচ বছর বয়সী সন্তান উপস্থিত ছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁকে দ্রুত উদ্ধারে প্রশাসনের জোরালো পদক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। আমরা সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করেছি। তাঁকে জোর করে নিয়ে গেছে, এ রকম কিছু আমরা পাইনি। আমরা আন্তরিকতার সঙ্গে বিষয়টি দেখছি।’
এই ঘটনায় স্থানীয় সম্প্রদায় ও পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে পরিবার নানা চাপের মধ্যে রয়েছে এবং তাঁরা দ্রুত সমাধান কামনা করছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত চলমান থাকলেও, এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে।
