প্রথম আলোর ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে 'আলো' প্রদর্শনীতে দর্শনার্থীদের ব্যাপক সমর্থন
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অবস্থিত প্রথম আলোর ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে আয়োজিত শিল্প প্রদর্শনী 'আলো'র ষষ্ঠ দিনে সকাল থেকেই দর্শনার্থীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বিশিষ্ট শিল্পী মাহবুবুর রহমানের এই প্রদর্শনীটি শুরু হয়েছে ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এবং চলবে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। তরুণ শিক্ষার্থী, শিক্ষক, চাকরিজীবী, সংস্কৃতিকর্মী, সাধারণ মানুষ এবং বিদেশি নাগরিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আজ প্রদর্শনী দেখতে এসেছেন, তাদের মধ্যে প্রথম আলোর প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন ও ভালোবাসা প্রকাশ পেয়েছে।
পাঠকের হৃদয়ে আগুন দেওয়ার সমতুল্য
প্রদর্শনী ঘুরে দেখে অনেক দর্শনার্থীই বলেছেন, প্রথম আলোতে আগুন দেওয়া মানে বাংলাদেশের সুশীল পাঠকের হৃদয়ে আগুন দেওয়া এবং ছিন্নমূল মানুষের শেষ আশ্রয়স্থলে আগুন দেওয়া। তৃণমূল মানুষের কণ্ঠস্বর তুলে ধরার জায়গাটিই পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে তাদের ধারণা। আবদুল করিম রাশেদ নামের এক দর্শনার্থী, যিনি প্রথম আলোর জন্মলগ্ন থেকেই এর পাঠক, তিনি বলেছেন, 'প্রথম আলো পাঠকের মন জয় করে আজ এক নম্বরে আসছে। অন্য পত্রিকাগুলো এটা চেষ্টা করুক অথবা যারা আগুন দিয়েছে, তারা একটা পত্রিকা বের করুক। একটা আদর্শকে এভাবে আগুন দিয়ে ধ্বংস করা যাবে না।' তাঁর মতে, যারা প্রথম আলোকে জ্ঞানে, বুদ্ধিতে, মেধায় মোকাবিলা করতে পারবে না, তারাই এই হামলা চালিয়েছে।
সরকারের ব্যর্থতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা
প্রদর্শনী দেখতে আসা অনেকেই সরকারের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, ভবনটির ওপর হামলা রুখতে না পারায়। শরীফ মাহমুদুল হাসান নামের এক দর্শনার্থী বলেন, 'এটা তো সরকারের ব্যর্থতা বলতে হবে। একটা সরকারের প্রথম দায়িত্ব হচ্ছে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সেখানে যখন গণমাধ্যমের ওপর একটা আক্রমণ বা হামলা হয়, তখন এর থেকে দুঃখজনক আর কিছু নেই।' সাবেক স্কুলশিক্ষিকা মালবিকা পালও ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ঘুরে দেখে কষ্ট প্রকাশ করেন, তিনি বলেন, 'দেখে খুব কষ্ট লাগল যে পত্রিকার অফিস কেন এভাবে পুড়িয়ে দিল। এটা একটা খারাপ কাজ। আমরা তো বহু বছর ধরে প্রথম আলো পড়ি।'
প্রদর্শনীটি ঘুরে দেখেন জাতিসংঘের প্রধান বৈশ্বিক উন্নয়ন সংস্থা ইউএনডিপির রুলস অফ ল, জাস্টিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের সিনিয়র অ্যাডভাইজার রোমানা শোয়েগার। তিনি বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা অবশ্যই সমুন্নত রাখতে হবে এবং এই প্রদর্শনীটি একটি শক্তিশালী স্মারক হিসেবে কাজ করছে, যা গণতন্ত্রের প্রহরীদের অবিচল সাহসিকতার জোরালো প্রমাণ।
প্রদর্শনীর সময়সূচি ও পটভূমি
গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে একদল উগ্রবাদী প্রথম আলো ভবনে হামলা করে ব্যাপক লুটপাট চালায় এবং ভবনটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। অগ্নিদগ্ধ এই ভবনে আয়োজিত প্রদর্শনীটি প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে ১টা এবং বেলা ৩টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সবার জন্য খোলা থাকবে। দর্শনার্থীরা তাদের মন্তব্য লিখে রেখেছেন, প্রথম আলোর প্রতি তাদের অটুট বিশ্বাস ও সমর্থন জানিয়েছেন, যাতে প্রতিষ্ঠানটি আবারও মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে কোটি মানুষের ভালোবাসায়।
