সাভারে ১০ বছরের গৃহকর্মীকে গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা, চিকিৎসক দম্পতি গ্রেফতার
১০ বছরের গৃহকর্মীকে ছ্যাঁকা, চিকিৎসক দম্পতি গ্রেফতার

সাভারে ১০ বছরের গৃহকর্মীকে গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা, চিকিৎসক দম্পতি গ্রেফতার

সাভারের আশুলিয়ায় ১০ বছরের এক গৃহকর্মীকে গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রোজার রাখা অবস্থায় এই অমানবিক নির্যাতনের ঘটনায় গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজের এক চিকিৎসক দম্পতিকে আটক করেছে পুলিশ।

গ্রেফতারের ঘটনা

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে আশুলিয়ার নিরিবিলি এলাকার ফাল্গুনী হাউজিং-এর একটি ভাড়া বাসা থেকে অভিযুক্ত ডা. জাহিদুল ইসলাম ও তার স্ত্রী ডা. মারিয়া সুলতানাকে আটক করে আশুলিয়া থানা পুলিশ। ভুক্তভোগী গৃহকর্মীর নাম সামিয়া আক্তার, যিনি পাবনার আমিনপুর গ্রামের অধিবাসী রজব আলীর কন্যা।

নির্যাতনের বিবরণ

সামিয়ার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১১ মাস ধরে তিনি ডাক্তার দম্পতির বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করছেন। প্রথম মাসে আদর-যত্ন পাওয়ার পর পরের মাস থেকেই তাদের আসল রূপ প্রকাশ পায়। কোন কাজে উল্টা-পাল্টা হলে স্বামী-স্ত্রী মিলেই শিশুটির ওপর অমানবিক নির্যাতন চালাতেন। গরম খুন্তি দিয়ে তার জিহ্বায় ছ্যাঁকা দেওয়াসহ নানা নির্যাতনের অভিযোগ এলাকাবাসীর নজরে আসে, যার ফলে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

মেয়েটি জানায়, কোন খাবার না বলে খেলেই তার ওপর নির্যাতন করা হত। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে তার পরিবারের লোকজন জোর করে টাকার বিনিময়ে তাকে এই বাসায় রেখে যায়। তার বাবার সঙ্গে কথা বলবে কি না জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, "আমি তাদের সঙ্গে কথা বলব না, তারা আমার কেউ না।"

পুলিশের পদক্ষেপ

আশুলিয়া থানার ওসি রুবেল হাওলাদার যুগান্তরকে নিশ্চিত করেন যে খবর পাওয়ার পরপরই শনিবার সন্ধায় মেয়েটিকে উদ্ধার করে আশুলিয়া থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তার পরিবারের সদস্যদের খবর দিয়ে আনা হয়েছে এবং মেয়েটির পিতা রজব আলী বাদী হয়ে মামলা দিয়েছেন। দুপুর ১টায় গ্রেফতারকৃত দম্পতিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

সম্প্রতি অনুরূপ ঘটনা

মাত্র কয়েকদিন আগে রাজধানীর উত্তরায় শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাফিকুর রহমানের স্ত্রী বিথী আক্তারকে গ্রেফতার করা হয়। সেই ঘটনায় দেশব্যাপী প্রতিবাদের ঝড় উঠেছিল, যা বর্তমান ঘটনাকেও আলোচনায় নিয়ে এসেছে।

এই ঘটনা শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা ও কঠোর আইন প্রয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরছে।