রাজশাহীতে গোলাম মোস্তফা হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন
রাজশাহীতে হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল

রাজশাহীতে গোলাম মোস্তফা হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তারের দাবিতে উত্তাল বিক্ষোভ

রাজশাহী নগরে গোলাম মোস্তফার হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে তাঁর পরিবার ও এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন। বুধবার সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে নগরের বিনোদপুর বাজারে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের পাশে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এর আগে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে স্থানীয় এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে সেখানে জড়ো হন তাঁরা। এ সময় হত্যার বিচার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন অংশগ্রহণকারীরা।

পরিবারের করুন আবেদন ও অভিযোগ

মানববন্ধনে গোলাম মোস্তফার স্ত্রী নাদেরা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তাঁর স্বামী নির্দোষ ছিলেন এবং দিনমজুরি করে সংসার চালাতেন। তিনি তিন মেয়ের মধ্যে আড়াই মাস আগে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে এক মেয়ে হারিয়েছেন এবং এখন পরিবারে উপার্জনের কেউ নেই। নাদেরা বেগম প্রশাসনের কাছে স্বামীর হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।

তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে তাঁর স্বামীকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল এবং নামাজ পড়তে যাওয়ার পথে গুলি করে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের চাচাতো ভাইয়ের স্ত্রী মিলি আক্তার বলেন, আগের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্বাচনের দু-তিন দিন আগে প্রতিপক্ষের লোকজন ‘একটি লাশ ফেলবে’ বলে হুমকি দিয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে মীমাংসার চেষ্টা হলেও তা হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া ও হুঁশিয়ারি

গোলাম মোস্তফার ভাতিজা মনজুর হোসেন বলেন, ঘটনার কয়েক দিন পেরিয়ে গেলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। দ্রুত আসামিদের আইনের আওতায় না আনলে এলাকাবাসী কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। প্রতিবেশী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, মোস্তফা একজন সৎ ও শান্ত স্বভাবের মানুষ ছিলেন এবং কোনো মারামারি বা বিরোধে তিনি জড়িত ছিলেন না। তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

হত্যাকাণ্ডের পটভূমি ও মামলা

গত শনিবার রাত আটটার দিকে নগরের ডাঁশমারী খোঁজাপুর কবরস্থানের প্রাচীরের পাশে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন গোলাম মোস্তফা (৫০)। পরে তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় গত রোববার সকালে ২৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. উকিল, সাংগঠনিক সম্পাদক হাসিবুল মোল্লা ও শিহাব ইসলামকে আসামি করে মামলা করেছেন নিহতের স্ত্রী নাদেরা বেগম। এতে অজ্ঞাত আসামিও করা হয়েছে।

মামলার এজাহার ও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় এক বছর আগে নিহতের ভাতিজা চঞ্চলকে কেন্দ্র করে একটি বিরোধের সূত্রপাত হয়। খোঁজাপুর মোড়ে একটি দোকানে ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষই পাল্টাপাল্টি হামলার অভিযোগ তোলে এবং মামলা করে। সেই মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।

পুলিশের বক্তব্য

নগরের মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, তাঁরা এখনো আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পারেননি এবং আসামিরা পলাতক রয়েছেন। তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে তিনি জানান।