বিমানবন্দরে দুই ঘণ্টার বেশি জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মাহদী হাসানকে ছেড়ে দেওয়া হলো
বিমানবন্দরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মাহদী হাসানকে ছেড়ে দেওয়া

বিমানবন্দরে দুই ঘণ্টার বেশি জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মাহদী হাসানকে ছেড়ে দেওয়া হলো

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও সংগঠনটির হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহদী হাসানকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকালে বিমানবন্দরে পুলিশের কর্মকর্তারা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ভারত থেকে ফেরার পর জিজ্ঞাসাবাদের ঘটনা

জানা গেছে, বুধবার বিকাল ৩টা ৪০ মিনিটে ভারতের দিল্লি থেকে ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণ করেন মাহদী হাসান। এরপর ইমিগ্রেশনে পুলিশের কর্মকর্তারা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন, যা প্রায় দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে। বাংলাদেশে ফেরার আগে ফেসবুক লাইভে মাহদী বলেন, “আমি দিল্লি বিমানবন্দর থেকে বলছি। আমার সঙ্গে যা ঘটেছে, তা দেশে গিয়ে সংবাদ সম্মেলনে জানাব। এখানে আমাকে প্রায় ৪০ মিনিট পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, “আমি আমার দেশের দূতাবাসে কথা বলতে বলেছিলাম। এরপরও আমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা হয়েছে। পরে দ্রুত ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করে আমাকে দেশে পাঠানো হচ্ছে।” তবে তিনি কী কারণে ভারতে গিয়েছিলেন, সেই বিষয়টি এখনো স্পষ্ট নয় এবং তা জানা যায়নি।

পূর্ববর্তী ঘটনা ও গ্রেফতার

এর আগে, গত ১ জানুয়ারি হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানায় এনামুল হাসান নয়ন নামে এক তরুণকে আটক করা হলে মাহদী হাসান সেখানে যান। সেই সময় “বানিয়াচং থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে কিন্তু জ্বালাই দিয়েছিলাম”, এমন বক্তব্য দিয়ে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।

এই ঘটনায় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে, তবে আন্দোলনের মুখে ২৪ ঘণ্টার আগেই তিনি জামিনে মুক্তি পান। এই পটভূমিতে বিমানবন্দরে তার জিজ্ঞাসাবাদ ঘটনাটি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া ও মুক্তি

বিমানবন্দর সূত্র জানায়, জিজ্ঞাসাবাদের সময় পুলিশের কর্মকর্তারা মাহদী হাসানের ভ্রমণ এবং অন্যান্য বিষয়ে প্রশ্ন করেন। প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হওয়ার পর সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি, তবে এটি সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।